ইরান চুক্তি নিয়ে বিভক্ত রিপাবলিকান শিবির; সমালোচকদের ‘বোকা’ বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত মার্কিন ক্যাপিটল ভবন
বিদেশে এখন
0

ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সই করা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন) এই চুক্তির অনুলিপি ক্যাপিটল হিলে ছড়িয়ে পড়ার পর এই প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

একজন রিপাবলিকান সিনেটর এই কাঠামো চুক্তিকে ‘কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৈদেশিক নীতির ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আরেকজন বলেছেন, চুক্তির কিছু শর্ত ‘অপরিণামদর্শী’ বলে মনে হচ্ছে। রিপাবলিকান-ঘেঁষা কয়েকজন ভাষ্যকারও এই চুক্তির বিরোধিতা করেছেন।

দীর্ঘদিন প্রেসিডেন্টের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য দেখিয়ে আসা রিপাবলিকান সদস্যদের পক্ষ থেকে এ ধরনের সমালোচনা বিরল। ইরান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তারা ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছেন। ডেমোক্র্যাটরাও এই চুক্তির সমালোচনায় সরব হয়েছেন।

ট্রাম্প প্রাথমিক এই চুক্তিতে সই করার একদিন পর বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস কংগ্রেস সদস্যদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) টেক্সট পাঠায়। তবে কংগ্রেসের সহকারীরা জানান, এই চুক্তি বা প্রশাসনের পরিকল্পনা নিয়ে কংগ্রেসে কোনো ব্রিফিং হয়নি।

লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এক্সে এক পোস্টে বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা দমন করা হয়নি। তারা শিখেছে যে হরমুজ প্রণালিতে হুমকি দেয়াটা কাজ করে এবং ভবিষ্যতেও তারা নিশ্চিতভাবেই এটিকে কাজে লাগাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন ১৩ জন আমেরিকান নিহত, পরিবারগুলো জ্বালানির জন্য কোটি কোটি ডলার গুনেছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে এবং বোমা হামলা থেমেছে। এটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৈদেশিক নীতির ভুল।’

মিসিসিপির সিনেটর ও সিনেটের শক্তিশালী আর্মড সার্ভিসেস কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান রজার উইকার আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যকে ‘দরকষাকষির মাধ্যমে বিসর্জন’ দিচ্ছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলকে থামতে বাধ্য করাও ভুল হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তার সমালোচকদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি লেখেন, ‘এই বোকারা মনে করছে আমি ইরানের প্রতি যথেষ্ট কঠোর ছিলাম না। অথচ শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং তেলের দাম পড়ে যাচ্ছে। তারা হয় হিংসুটে, খারাপ মানুষ, না হয় বোকা।’

রক্ষণশীল ভাষ্যকার বেন শাপিরো এই সমঝোতা স্মারককে ‘একটি বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করে এর দায় চাপিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ওপর। ট্রাম্পের অন্যতম সোচ্চার সমর্থক মার্ক লেভিনও এই চুক্তির ব্যাপারে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন। চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত না করাকে ‘অশোভন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরান একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র, যারা আমাদের জনগণকে হত্যা করেছে। এই কথা আমাদের আর কতবার মনে করিয়ে দিতে হবে?’

তবে অনেক রিপাবলিকান এই চুক্তির প্রশংসাও করেছেন। কানসাসের সিনেটর রজার মার্শাল কেসিএমও রেডিওকে বলেন, ট্রাম্প ‘স্থায়ী শান্তির পথ বেছে নিয়েছেন, আরেকটি চিরস্থায়ী যুদ্ধ নয়’। ২০১৫ সালের ইরান নিউক্লিয়ার এগ্রিমেন্ট রিভিউ অ্যাক্ট (ইনারা) অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি কংগ্রেসকে পর্যালোচনা করতে দিতে হবে। সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই চুক্তি কংগ্রেসে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন।

এএম