অবিশ্বাসে ঘেরা সম্পর্কে সমঝোতা চুক্তি; নিঃসন্দেহে ওয়াশিংটন-তেহরানের জন্য ঐতিহাসিক ঘটনা। কারণ ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর এ প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইরানের প্রেসিডেন্ট চুক্তিতে সই করলেন। এরমধ্য দিয়ে ইরানে ইসলামি শাসন ব্যবস্থা পতনে স্বপ্ন দুমরে মুচড়ে ভেঙে গেছে। হতাশ খামেনিতন্ত্র বিরোধীরা।
১৪ দফা সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানই বেশি লাভবান বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না অঙ্গীকার করা ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তে অটুট শেষ পর্যন্ত থাকতে পারেননি। সমঝোতা স্মারকে তিনিই প্রথম সই করেছেন।
এ অবস্থায় যুদ্ধে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে ইরান শুধু টিকেই থাকেনি, বরং অনেক কিছু নিয়েই লড়াই থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিপরীতে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংসের দাবি ছাড়া, সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু পাওয়ার নেই। উল্টো ইরান পুনর্গঠনে শত শত কোটি ডলার ক্ষতিপূরণের অর্থ গুনতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। ফেরত দিতে হবে জব্দকৃত সম্পদও। যা নিয়ে খোদ ট্রাম্প প্রশাসনেই দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।
আরও পড়ুন
সবচেয়ে চমকপ্রদ কৌতুহল হলো; ট্রাম্প এমন কী চাপে পরলেন যে, এ সমঝোতা স্মারকে সই করতে বাধ্য হলেন। এক্ষেত্রে দেখা যায়, উত্তেজনা চলাকালেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, তিনি চাননি ৩১তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভারের মতো ইতিহাস তাকে লিপিবদ্ধ করুক। যার আমলে শুরু হয়েছিলো মহামন্দা। এমনকি এ যুদ্ধে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে অর্থনীতিতে বিপর্যয় ঘটতে পারতো বলেও শঙ্কা করছিলেন। এছাড়া হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালিয়ে ইরানও চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলো বলে মনে করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদনে এসব যুক্তি তুলে ধরা হয়।
এসবের মধ্য দিয়ে আদৌ কী ট্রাম্প মার্কিনিদের বোঝাতে পারবেন, যুদ্ধ শেষের সমঝোতা চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিজয়। যিনি ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই বা কাগজে কলমে যেভাবেই হোক জয়ের সংকল্প করেছেন? এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প এরই মধ্যে দাবি করেন যে, এ চুক্তির মাধ্যমে আগামী ১৫-২০ বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এটি অনেকটা ২০১৫ সালে বারাক ওবামার করা পারমাণবিক ইস্যুতে করা চুক্তির কাছাকাছি। অথচ ওই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেই ক্ষমতায় এসেছিলেন ট্রাম্প।
এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, প্রাণ গেছে ১৩ মার্কিন সেনা ও তিন হাজারের বেশি ইরানির। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল না হয়ে বরং আরও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসার আভাস মিলছে। তবে এখনও ৬০ দিন সুযোগ আছে। স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর আলোচনায় ওয়াশিংটন কতটা বিজয়ী বা লাভবান হতে পারে; তাই এখন দেখার বিষয়।





