ইরানি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; ১২০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতা ফাঁস: ব্লুমবার্গ

বিধ্বস্ত স্কুল ভবনের ধ্বংসাবশেষ
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের একটি স্কুলে আনুমানিক ১২০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ২০১৯ সালে এক গোয়েন্দা বিশ্লেষকের দেয়া সতর্কবার্তা মূল লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ডেটাবেজে পৌঁছায়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গ সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলার কয়েক বছর আগে ওই বিশ্লেষক দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের মিনাবের একটি স্থাপনায় পরিবর্তন লক্ষ করেন। যুক্তরাষ্ট্র আগে জায়গাটিকে ইরানি সামরিক বাহিনীর এলিট শাখার নৌঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। কিন্তু বাস্তবে তখন সেটি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়েছিল।

বিশ্লেষক তথ্যটি একটি ডিজিটাল গোয়েন্দা টুলে লিপিবদ্ধ করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ডেটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। ফলে তথ্যটি সামরিক কমান্ডারদের কাছে পৌঁছায়নি। সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে এ মন্তব্য জমা দেয়া হয়েছিল। এরপরও ভবনটি একাধিকবার পর্যালোচনা করা হলেও ডেটাবেজ হালনাগাদ করা হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়ার দিন ওই স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ৭৩ জন ছেলে, ৪৭ জন মেয়ে, ২৬ জন শিক্ষক ও সাতজন অভিভাবকসহ মোট প্রায় ২০০ জন নিহত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পেন্টাগনের এক তদন্ত প্রতিবেদন এপ্রিলে জমা দেয়া হলেও তা এখনো সেন্টকমে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার স্বাধীন পর্যালোচনার জন্য এক বিমানবাহিনীর জেনারেলকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

সাবেক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, পেন্টাগনের লক্ষ্যবস্তু বিশ্লেষণ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা রয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে তৈরি এমআইডিবি ডেটাবেজ এখনো হাতে লিখে হালনাগাদ করা হয় এবং এটি বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু তালিকার প্রধান উৎস।

এর বিকল্প স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ‘মার্স’ চালুর কাজ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বহু বছর পিছিয়ে আছে। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যাক শানাহান ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘লক্ষ্যবস্তুর নির্ভুলতা যাচাই না করার ‘‘কোনো অজুহাত নেই’’।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে এক বক্তব্যে এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি ভয়াবহ ঘটনা, কিন্তু সেদিন ক্ষেপণাস্ত্র উড়ছিল সর্বত্র। কেউ বলেছে এটি আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র, হয়তো তা ছিল না। এটি আমাদের ছিল, এমন কিছু আমি দেখিনি।’

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘আমরা তদন্তটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি।’ তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিএনএন আগে জানিয়েছিল, স্কুলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল। ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির সাবেক প্রধান বব অ্যাশলি পেন্টাগনকে তদন্তের ফল প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।

এএম