ফ্রান্সের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলো বুরকিনা ফাসোর জান্তা সরকার

২০২২ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকে বুরকিনা ফাসো শাসন করছেন ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে
বিদেশে এখন
0

ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বুরকিনা ফাসো। গত শুক্রবার এক টেলিভিশন ভাষণে দেশটির সামরিক জান্তা সরকার এই ঘোষণা দেয়। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০২২ সালে ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই ফ্রান্সের সঙ্গে বুরকিনা ফাসোর সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। শুক্রবার দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী পিংডওয়েন্ডে গিলবার্ট ওয়েড্রাওগো বলেন, ফ্রান্স তাদের দেশের বিরুদ্ধে ‘অবিরাম তৎপরতা’ চালাচ্ছে এবং তাদের মধ্যে এখনো ‘নব্য-উপনিবেশবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ কাজ করছে।

ফ্রান্স এই সিদ্ধান্তকে ‘শত্রুতামূলক ও ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ বুরকিনা ফাসো সরকারের ‘উদ্বেগজনক বিচ্যুতি’ প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত ফরাসি নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্যারিস।

বুরকিনা ফাসো এবং প্রতিবেশী মালি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসলামপন্থী বিদ্রোহ দমনে ফরাসি বাহিনীর সহায়তা নিয়ে আসছিল। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ক্যাপ্টেন ত্রাওরে ফরাসি সেনাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করেন। তার সরকার ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ‘গোপন এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের অভিযোগ এনে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে শুরু করেছে।

বুরকিনা ফাসোর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিবেশ আর নেই। ফ্রান্স ‘নাশকতামূলক নেটওয়ার্ককে’ সহায়তা দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বুরকিনা ফাসোকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে বলে এতে অভিযোগ করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; দুই দেশের জনগণের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন এতে ক্ষুণ্ণ হবে না বলেও জান্তা সরকার জানিয়েছে।

২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে বুরকিনা ফাসোতে ফ্রান্সের কোনো রাষ্ট্রদূত নেই। এর আগে ২০২৪ সালে বুরকিনা ফাসো তিনজন ফরাসি কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছিল। ২০২৪ সালে গণতন্ত্রে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিলেও জান্তা সরকার তা রক্ষা করেনি এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে।

এএম