যুদ্ধের প্রস্তুতিতে তাইওয়ান; চীনের চাপের মুখে ‘রেজিলিয়েন্স’ মহড়া

তাইওয়ানের ভাইস প্রেসিডেন্ট শিয়াও বি-খিম
বিদেশে এখন
0

চীনের সম্ভাব্য অবরোধ, শক্তিশালী ভূমিকম্প, তথ্যযুদ্ধ, অবকাঠামো নাশকতা এবং শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন—এমন এক ‘দুঃস্বপ্নের’ পরিস্থিতি ধরে ব্যাপক মহড়া চালিয়েছে তাইওয়ান। দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে যুদ্ধ প্রস্তুতি জোরদার করার অংশ হিসেবে এই মহড়ায় ৩৭০ জনের বেশি সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তা অংশ নেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসছে।

মধ্য তাইওয়ানের নানতো জেলায় দুই দিনব্যাপী এই মহড়ায় প্রথমে টেবিলটপ অনুশীলন এবং পরে মাঠ পর্যায়ের মহড়া হয়। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর ড্রোন হামলা প্রতিহত করা, খাদ্য রেশন কেন্দ্র স্থাপন এবং ভূমিকম্পে হতাহত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার অনুশীলন করা হয়। মহড়ায় ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ১২ জন নিহতের কাল্পনিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়, যার সঙ্গে যুক্ত করা হয় অবরোধ, ব্যাংকে অর্থ উত্তোলনের হিড়িক ও জনঅস্থিরতা।

তাইওয়ানের কর্মকর্তারা জানান, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে এই মহড়াকে আগের চেয়ে বেশি বাস্তবসম্মত করা হয়েছে। হাসপাতাল আন্ডারগ্রাউন্ডে সরিয়ে নেয়া, সরকারি নেটওয়ার্কে সাইবার হামলার অনুকরণ এবং ভুয়া তথ্য মোকাবিলার কৌশল এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এক পর্যায়ে স্থানীয় টেলিভিশন সম্প্রচার ‘হাইজ্যাক’ করে বেইজিংপন্থী প্রচার চালানোর কাল্পনিক পরিস্থিতিও তৈরি করা হয়।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং বলপ্রয়োগের পথ কখনোই ত্যাগ করেনি। মহড়ার শেষ দিনে তাইওয়ান জানায়, চীন দ্বীপটির চারপাশে যুদ্ধজাহাজ ও অন্তত ২২টি সামরিক বিমান নিয়ে ‘যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতি টহল’ চালিয়েছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট লাইয়ের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপমহাসচিব লিন ফেই-ফান বলেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ যেন বুঝতে পারে—তাইওয়ানের সমাজ প্রস্তুত। এমন ব্যয়বহুল যুদ্ধ শুরু করার আগে তাদের দুবার ভাবতে হবে।’ কর্মকর্তাদের মতে, শান্তিকালে প্রস্তুতি না নিলে প্রকৃত সংকটে কার্যকরভাবে সাড়া দেয়া সম্ভব হবে না।

এএম