সমঝোতা লঙ্ঘন করে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের; পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

তেহরানের রাস্তায় সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির ব্যানার
বিদেশে এখন
0

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গত শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির একজন মূল অর্থদাতাসহ মোট ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সবার আগে রয়েছেন দুবাইয়ে বসবাসরত ইরানি ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী আলি আনসারি। আগে ব্রিটেন তাকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস ও অন্যান্য সংস্থাকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। মার্কিন ট্রেজারি বলছে, আনসারি জনঅর্থ সরিয়ে নিজের, সরকারি এলিট এবং আইআরজিসির স্বার্থে ইউরোপ, উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে বিশাল সম্পত্তি ও বাণিজ্যিক পোর্টফোলিও গড়ে তুলেছেন।

ট্রেজারির অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) ইরানভিত্তিক তিনটি মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি 'ফ্রন্ট কোম্পানি'গুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। ট্রেজারির ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানগুলো একাধিক শেল কোম্পানির আড়ালে বছরে কয়েক হাজার কোটি ডলার ইরানের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ব্যাংকগুলোর হয়ে স্থানান্তর করত। হংকংভিত্তিক সিডিএম ট্রেডিং লিমিটেড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা নাবা আলজাকি রয় ম্যাটেরিয়ালস ট্রেডিং এলএলসির বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, 'ইরানের শাসকগোষ্ঠীর আর্থিক জীবনরেখা কেটে দিতে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্য করে আমরা সরাসরি ইরান সরকারের বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছি।'

এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার দিনটি ছিল এক সপ্তাহের উত্তেজনার পর তুলনামূলক শান্ত একটি দিন। এর আগের সপ্তাহে কাতার ও সৌদি আরবের বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছিল। এর পাল্টায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় এবং ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি 'শেষ'। তবে ইরানের অনুরোধে আলোচনা অব্যাহত রাখতে রাজি হয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, মুজতবা খামেনি ও অন্যান্য শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সব ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার ভোরে বলেছেন, বেসেন্টের এই পদক্ষেপ সমঝোতা স্মারকের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। তিনি একে 'যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য লঙ্ঘন ও ভুল পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি লেখেন, 'বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে: শুধু পারস্পরিক মেনে চলার মাধ্যমেই এটা সম্ভব।' তিনি আরও দাবি করেন, ইরান 'এখন পর্যন্ত তার কথা রেখেছে।'

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করলে তারা 'সর্বাত্মক প্রতিরক্ষা'র জন্য প্রস্তুত। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ টেলিগ্রামে লিখেছেন, এই যুদ্ধ কখনো তেহরানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে শেষ হবে না।

ওবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রেট এরিকসন বলেছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞা তেহরানকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। তার মতে, 'ওয়াশিংটন এখন আর বিদ্যমান কাঠামো রক্ষার চেষ্টা করছে না, এটিকে সম্পূর্ণ নতুন কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে প্রস্তুত হচ্ছে।'

মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র 'কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং অঞ্চলে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করবে না।'

আনসারি ছিলেন একসময় মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ও এখন দেউলিয়া হয়ে যাওয়া 'আয়ান্দেহ ব্যাংক'-এর মালিক ও পরিচালক। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইরান সরকারের নির্দেশে ব্যাংকটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এএম