গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ও ইসরাইল আবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে এই মার্কিন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এই আলোচনায় কড়া আপত্তি জানাচ্ছে। তাদের মতে, যুদ্ধ বন্ধ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের জন্য ওয়াশিংটনের ওপর ইরানের চাপই একমাত্র কার্যকর পথ।
গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সই হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তিতে ইরান লেবানন যুদ্ধ বন্ধের দাবি রেখেছিল। কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় সেই চুক্তি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী বর্তমানে ইসরাইল-লেবানন সীমান্ত বরাবর প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে যাকে তারা ‘বাফার জোন’ বলছে, সেটি নিজেদের দখলে রেখেছে। ইসরাইল বলছে, হিজবুল্লাহর আক্রমণ থেকে উত্তর ইসরাইলের জনবসতি রক্ষায় এই জোন অপরিহার্য।
গত ২৬ জুন ওয়াশিংটনে একটি বৈঠকে লেবানন সংঘাত বন্ধ, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ, দক্ষিণ লেবাননে লেবানিজ সেনা মোতায়েন এবং ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি কাঠামো চুক্তি হয়েছিল। লেবাননের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোম বৈঠকে তাদের প্রতিনিধিদল ‘একটি জোনের পর আরেকটি জোন’ করে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানাবে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সোমবার বলেন, তিনি রোম বৈঠক থেকে ‘মাঠ পর্যায়ে বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ’ দেখতে চান এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার শুরু হোক।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সোমবার বলেছেন, ‘আমরা আনন্দিত যে রোম এই বৈঠকের আয়োজনস্থল হতে পেরেছে। এর মাধ্যমে আমাদের রাজধানী শান্তির রাজধানীতে পরিণত হচ্ছে।’
মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলের সামরিক অভিযানে লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর হামলায় অন্তত ৩২ জন ইসরাইলি সেনা এবং ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।





