আন্দ্রি দুবনিৎস্কি যখন নিহত হন, তখন তার বয়স ছিল ২৫ বছর। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর আভদিভকা থেকে পিছু হটার সময় তিনি রুশ সেনাদের হাতে ধরা পড়েন। আহত অবস্থায় তিনিসহ তার আরও পাঁচজন সহযোদ্ধা উদ্ধারের অপেক্ষায় ছিলেন।
লুদমিলা এএফপিকে জানান, ১৫ ফেব্রুয়ারি যখন তার স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা হয়, তখন আন্দ্রি কাঁদছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর একটি বার্তায় আন্দ্রি জানান, সম্ভবত তারা ধরা পড়তে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। দুদিন পর লুদমিলা একটি রুশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঁচটি নিথর দেহের ভিডিও দেখতে পান। হাতের একটি ‘ক্রশ’ ট্যাটু দেখে তিনি তার স্বামীকে শনাক্ত করেন।
আরও পড়ুন:
ইউক্রেনের ১১০তম ব্রিগেড নিশ্চিত করেছে যে আন্দ্রি ও তার সহযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, রুশ বাহিনী ওই সেনাদের সরিয়ে নেয়ার চুক্তি লঙ্ঘন করে তাদের গুলি করেছে। ইউক্রেনীয় প্রসিকিউটররা ইতিমধ্যে ‘নিরস্ত্র যুদ্ধবন্দীদের গুলি করার’ অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছেন।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৩ সাল থেকে যুদ্ধবন্দীদের এই ধরনের ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ইউক্রেনের জেনারেল প্রসিকিউটর অফিসের কর্মকর্তা আন্দ্রি আতামানচুক এএফপিকে বলেন, ‘এটি রাশিয়ার একটি সুপরিকল্পিত নীতি। রুশ কমান্ডাররা সরাসরি এমন হত্যার আদেশ দিচ্ছেন।’
তবে মস্কো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গত জুনে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে ১২৯ জন ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দীকে হত্যার বিষয়টি যাচাই করার তথ্য দেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে এসে জাতিসংঘ এসব হত্যাকাণ্ডের ‘তীব্র বৃদ্ধি’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।





