পলিটব্যুরো সদস্যের পাশাপাশি মা জিংরুই কেন্দ্রীয় গ্রামীণ কর্ম বিষয়ক দলের উপপ্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত এপ্রিলে ‘আইন ও শৃঙ্খলার মারাত্মক লঙ্ঘনের’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়, যা চীনের রাজনীতিতে দুর্নীতির সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গত মাসেই তার সংসদ সদস্যপদও কেড়ে নেয়া হয়েছিল।
সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক চীন বিষয়ক অধ্যাপক জিন ক্রিস্টোফার মিটেলস্ট্যাড বলেন, ‘মা জিংরুইয়ের মতো উচ্চপদস্থ কাউকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি সরাসরি শি জিনপিংয়ের অনুমোদন নিয়েই হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে দুর্নীতির তদন্তকারী সংস্থা সিসিডিআই এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছে।
তদন্তকারী সংস্থা সিসিডিআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মা জিংরুই প্রভাব খাটিয়ে অন্যদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া এবং বেআইনিভাবে পছন্দের লোকদের চাকরিতে নিয়োগ দেয়ার কাজ করেছেন। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বড় ধরনের অপরাধ দমনেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। মা জিংরুইয়ের এক সময়ের চিফ অব স্টাফ গুও ইয়ংহাংয়ের বিরুদ্ধেও গত মার্চে তদন্ত শুরু হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মা জিংরুই ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপঢৌকন গ্রহণ করেছেন এবং স্বজনদের বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে সম্পত্তি কেনায় সহায়তা করেছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যৌন লালসা মেটানোর অভিযোগও আনা হয়েছে। সিসিডিআই একে ‘বিশাল আকারের পারিবারিক দুর্নীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
রকেট বিজ্ঞানী থেকে প্রশাসক হওয়া মা জিংরুই চীনের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা খাতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে চীনের মহাকাশ যান ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির মূল সংস্থা ‘চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করপোরেশন’-এ নির্বাহী হিসেবে যোগ দেয়ার পর তার দ্রুত উত্থান ঘটে।
শি জিনপিংয়ের কয়েক বছর ধরে চলা এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত চীনের সামরিক, সরকারি ও দলীয় লক্ষ লক্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে। গত জানুয়ারিতে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ জেনারেল ঝ্যাং ইউক্সিয়ার বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছিল। চীনের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতের ওপর নজরদারি বাড়ানোর অংশ হিসেবে মা জিংরুইয়ের এই পতনকে দেখা হচ্ছে।





