হরমুজে ফের জাহাজ চলাচল সংকটে; মার্কিন অবরোধে নতুন উত্তেজনা

স্ট্রেইট টাইমস বিশ্লেষণ

আবিদ মঈন
ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকির মধ্যে ফুজাইরাহ উপকূলে ট্যাঙ্কারগুলো দেখা যাচ্ছে
বিদেশে এখন
0

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ শুরু করায় পরিস্থিতি গত এক সপ্তাহের তুলনায় আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। ওমান ও কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোতে ইরানের হামলা এবং ট্রাম্পের ‘ফি’ আদায়ের ঘোষণার পর এই অঞ্চল এখন এক অনিশ্চিত সংঘাতের মুখে। স্ট্রেইট টাইমস বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গত ১৪ জুলাই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সতর্ক করে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া ইরানের জলসীমায় প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া যেকোনো জাহাজ আটক করা হবে। এর ফলে ২৮ দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শেষ চিহ্নটুকুও মুছে গেছে।

এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে ট্রাম্পের একটি অদ্ভুত ঘোষণা। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে প্রণালিটির ‘অভিভাবক’ এবং নিরাপত্তার ব্যয় মেটাতে সব পণ্যবাহী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ‘ফি’ বা কর আরোপের অধিকার রাখে। একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নৌ চলাচলের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধের কথা বলে আবার নিজেই সেই জলপথের ওপর কর দাবি করছেন বিষয়টি নিয়ে ইরানও পাল্টা বিদ্রূপ করেছে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে লিখেছেন, ‘পরিষেবা দিলে পারিশ্রমিক তো পাওয়াই উচিত। তবে ২০ শতাংশ অনেক বেশি, ইরান ন্যায্য হবে।’

আরও পড়ুন:

ট্রাম্পের এই ফি আদায়ের প্রস্তাবে মার্কিন কর্মকর্তারাই অবাক হয়েছেন। এই কর কীভাবে আদায় হবে বা কারা পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করবে, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি হয়তো ট্রাম্পের কেবল বাগাড়ম্বর বা সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার কৌশল।

তবে সংকটের গভীরতা তিনটি কারণে আরও বেড়েছে। প্রথমত, ইরান যুদ্ধের ভৌগোলিক সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে। সৌদি আরব, আমিরাত ও বাহরাইনের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে ইরান পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এমনকি ওমান ও কাতারের মতো বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোতেও হামলা চালিয়েছে তেহরান, যা তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব আগের চেয়ে বেশি কঠোর ও ক্ষুব্ধ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলি ও মার্কিন হামলায় শীর্ষ নেতৃত্বের পতনের পর ক্ষমতায় আসা কট্টরপন্থিরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে গিয়ে লাভ নেই। ফলে তারা এবার যুদ্ধের জন্য আরও বেশি বদ্ধপরিকর হতে পারে।

আরও পড়ুন:

তৃতীয়ত, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন নাতাঞ্জের কাছে সুসংরক্ষিত ‘পিকঅ্যাক্স পর্বত’ পরমাণু স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এই স্থাপনাটি মাটির এত গভীরে যে এটি ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘জিবিইউ-৫৭’ ব্যবহার করতে হতে পারে।

আপাতত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা দুই পক্ষই করছে বলে মনে হয়। কারণ ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালালেও সরাসরি ইসরাইলকে লক্ষ্য করে কিছু করেনি। তবে এই নিম্ন-পর্যায়ের সহিংসতা ও ভুল হিসাবের ঝুঁকি পারস্য উপসাগরকে এক দীর্ঘমেয়াদি সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

এএম