ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদিকে হোয়াইট হাউসে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে ভালোবাসে, আল-জাইদির নেতৃত্বে দেশটি খুব ভালোভাবে চলছে। গেল মে মাসে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর জাইদির এটি প্রথম বিদেশ সফর।
ট্রাম্পের প্রত্যক্ষ সমর্থনেই ইরাকের ক্ষমতায় বসেন আল-জাইদি। হোয়াইট হাউজে দুই নেতার বৈঠকে বেশকিছু চুক্তি ও প্রতিশ্রুতির কথা উঠে আসে। ট্রাম্প বলেন, তেল ও গ্যাসসহ খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ ইরাকের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মূলত তেলের জন্যই যুক্তরাষ্ট্র অনেক চুক্তি করতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের সূচনা বলে অভিহিত করেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক মোড় নিচ্ছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে। ইরাকের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের মার্কিন বিনিয়োগের প্রত্যাশা তার।
আরও পড়ুন:
এদিকে, ইরাক থেকে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে দেশটি থেকে মার্কিন উপস্থিতির অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বিনিময়ে ইরাকজুড়ে সক্রিয় আঞ্চলিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরাক। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি বা আলোচনা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে আঞ্চলিক গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক।
এর আগে পেন্টাগনে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদিকে সম্মাননা জানান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে ইরাকের বহু বছরের লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন আল-জাইদি। তিনি বলেন, এই সংঘাতে ইরাকে রাজস্ব ব্যয় বেড়েছে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছে তেল সমৃদ্ধ দেশ ইরাক। দেশটির দৈনিক ৩৪ লাখ জ্বালানি রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই হয় এই জলপথ দিয়ে।





