‘হিউম্যানসফার্স্ট’ নামের একটি তৃণমূল সংগঠন এই বিক্ষোভের সমন্বয় করে। সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যামি ক্রেমার ২০০৯ সালের ‘টি পার্টি’ আন্দোলনের সাবেক নেত্রী। তিনি বলেন, ডেটা সেন্টারবিরোধী এই ক্ষোভ অনেকটা ২০০৯ সালের ডানপন্থি পপুলিস্ট আন্দোলনের মতো, যা অতিরিক্ত কর ও সরকারি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছিল।
বিক্ষোভকারীরা ডেটা সেন্টার নির্মাণকে জবাবদিহিহীন সম্প্রসারণ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তি সত্ত্বেও অথবা যথেষ্ট নিয়ন্ত্রক তদারকি না থাকলেও স্থানীয় কর্মকর্তারা ডেভেলপারদের সঙ্গে গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করে প্রকল্প অনুমোদন দেয় এমন অভিযোগও রয়েছে।
এখন উচ্চ বিদ্যুৎ বিলের সম্ভাব্য বৃদ্ধি, মূল্যবান পানি সম্পদের অপচয় এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভ সামলাতে রাজ্য ও কেন্দ্র—উভয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ডেটা সেন্টারবিরোধিতা এমন কিছু ইস্যুর একটি, যা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়িয়ে অনেক মানুষের মধ্যে মিল খুঁজে পেয়েছে।
গত জুনে রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বর্তমান গতিকে সমর্থন করেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। মেটা, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং ইলন মাস্কের এক্সএআই-এর মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পে সহায়তার জন্য নিজের এলাকায় ডেটা সেন্টার তৈরি হলে তা সমর্থন করবেন এমন উত্তর দিয়েছেন মাত্র ১৪ শতাংশ।
ডেটা সেন্টার কোয়ালিশন শিল্পক্ষেত্রের সংগঠন এবং লবিং গ্রুপ এই বিক্ষোভ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তারা আগে বলেছিল, ডেটা সেন্টারগুলো যে সম্প্রদায়ে কাজ করে, সেখানকার দায়িত্বশীল প্রতিবেশী হিসেবে থাকতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাজনৈতিক বিভাজন পেরিয়ে
যদিও হিউম্যানসফার্স্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যামি ক্রেমার ২০০৯ সালের শুরুর দিকের রক্ষণশীল ‘টি পার্টি’ আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করেন, তিনি বলেন, ডেটা সেন্টারবিরোধী ক্ষোভ দলীয় নয়।
‘মানুষ একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখছে তাদের এলাকায় এমন একটি বিশাল স্থাপনা হতে যাচ্ছে, আর তারা সেটি চায় না,’ বলেন ক্রেমার। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেটা সেন্টার একটি নির্ধারক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
ক্রেমার বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে ‘ফ্রি পাস’ দেয়ার জন্য রিপাবলিকানদের সমালোচনা করলেও তিনি ও কয়েকজন আয়োজক বলেছেন, ডেমোক্র্যাট-নেতৃত্বাধীন নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ডেটা সেন্টার অনুমোদন স্থগিত করার মতো নীতিকেও তারা সমর্থন করেন না। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা উন্নয়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে চান, সম্পদ ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে চান, এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হলে ডেভেলপারদের জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই সঙ্গে তারা স্থানীয় সুবিধা হিসেবে ভালো বেতনের শ্রমিকদের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক চাকরি তৈরির মতো বিষয়ও চান।
শুক্রবার রাতের দিকে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি টেক্সাস ডেটা সেন্টার উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্র সেখানে সর্বাধিক ১৬টি বিক্ষোভ হওয়ার কথা ছিল। ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ অঙ্গরাজ্য জর্জিয়ায় ছিল ১১টি। ডেমোক্র্যাট ক্যালিফোর্নিয়া, রিপাবলিকান ফ্লোরিডা এবং ব্যাটলগ্রাউন্ড পেনসিলভানিয়ায় প্রতিটিতে ছিল ৭টি করে।
৩১ বছর বয়সী নতুন কর্মী ও নিজেকে ‘রাজনৈতিক যাযাবর’ বলে বর্ণনা করা ইভা কার্ডোনা টেক্সাসে একটি বিক্ষোভ আয়োজন করছেন। তিনি বলেন, ‘অয়িনিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দ্রুত বিকাশের খবর আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে। আমি সাধারণ ফেসবুক পোস্টের চেয়ে আরও সরাসরি কিছু করতে চেয়েছি।’
ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমির ইম্পেরিয়াল কাউন্টিতে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে সাহায্য করছেন বামপন্থি ইভান ডেলসোল। সেখানে প্রস্তাবিত একটি ডেটা সেন্টার প্রকল্পে কলোরাডো নদী থেকে বছরে ২৬ কোটি গ্যালন পানি ব্যবহার হতে পারে। ডেলসোল বলেন, ‘এত পরিমাণ সুপেয় পানি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য ব্যবহার করাটা বাস্তবতা-বিরোধী।’
পানি নিয়ে উদ্বেগ
পানিকে সাধারণত বড় জনস্বার্থের একটি বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বিশেষ করে পানি-চাপে থাকা অঞ্চলে। তবে ডেটা সেন্টার শিল্প বলছে, অন্য শিল্পগুলোর তুলনায় তাদের পানি ব্যবহার ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।





