সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তির অনুমোদন ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিদেশে এখন
0

সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসলেও বিশ্লেষকদের অভিমত, এর ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হবে মার্কিন পারমাণবিক খাত। তবে অনেক বিশ্লেষকের শঙ্কা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথকে সুগম করতে পারে। যা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

চলমান ইরান সংঘাতের কারণে টালমাটাল মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির মাঝেই সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক বাড়াতে উদ্যোগী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন তিনি।

চুক্তির বিস্তারিত সম্পর্কে এখনও জানা না গেলেও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমগুলোর খবর, চুক্তির মেয়াদ হবে ৩০ বছর। এই সময়ে সৌদির বেসামরিক পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত জ্ঞান সরবরাহ করবে ওয়াশিংটন। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে চুক্তি পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসে পেশ করার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়াও, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু করার আগে এটি লাভজনক কিনা তাও খতিয়ে দেখবে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক খাত আর্থিকভাবে লাভবান হবে। কেননা চুক্তি মোতাবেক, রিয়াদ আগামী এক দশকের জন্য নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি তৈরি বা অন্য দেশ থেকে ক্রয় করতে পারবে না।

আরও পড়ুন:

তবে অনেক বিশ্লেষকের শঙ্কা, চুক্তিটি কার্যকরের পর্যায়ে গেলে তা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। কেননা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ সুগম করতে পারে।

এরইমধ্যে মার্কিন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। ইসরাইলকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির অনুমোদনকে, তেল আবিবের জন্য কৌশলগত ব্যর্থতা বলে মনে করেন তিনি।

ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন, ইসরাইলকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে পারমাণবিক চুক্তিটি রূপ নিচ্ছে, এটি গুরুতর কৌশলগত ব্যর্থতাকে নির্দেশ করে। এছাড়াও, সৌদি আরবের মাটিতে পারমাণবিক উপাদানের সমৃদ্ধকরণ আঞ্চলিক পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রণের বিপজ্জনক পতনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র অনেক বছর থেকেই সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির দিকে নজর রাখছে। বাইডেন প্রশাসনের আমলেও এমন উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু গাজা যুদ্ধ শুরুর পর তা থমকে যায়। তবে ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প মার্কিন মসনদে বসার পর ফের রিয়াদের সঙ্গে ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা শুরু করে।

ইএ