গত প্রায় দুই মাস ধরে রাজধানী টিরানায় এই বিক্ষোভ চলে আসলেও এদিনের সংঘাত ছিল নজিরবিহীন। অ্যাক্টিভিস্টদের অভিযোগ, আড্রিয়াটিক সাগর উপকূলে এই উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে দুর্নীতি চলছে এবং এটি বন্য প্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
বিক্ষোভকারীরা তাদের এই আন্দোলনের নাম দিয়েছেন ‘ফ্ল্যামিঙ্গো বিপ্লব’। জ্যারেড কুশনার যে সংরক্ষিত জলাভূমিতে বিলাসবহুল হোটেল নির্মাণ করতে চাইছেন, সেখানে প্রচুর ফ্লেমিঙ্গো পাখির সমাগম ঘটে। দাঙ্গা দমনের সরঞ্জাম ও ঢাল নিয়ে পুলিশ এদিন কয়েক শ বিক্ষোভকারীর ওপর জলকামান ব্যবহার করে, যারা পার্লামেন্ট ভবনের চারপাশের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ধাক্কা দিচ্ছিল। এসময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছিল, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ।’
কুশনারের এই রিসোর্ট ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী এডি রামার জোরালো সমর্থন রয়েছে। তিনি এই বিক্ষোভকে ‘সাজানো’ এবং তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উস্কানি বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীরা অনড়। পিরো নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘সরকারকে হটিয়ে দিতে আমি এখানে এসেছি। রামা একজন চোর, তাকে চলে যেতে হবে।’ নোয়েল লেশজা নামের এক তরুণ বলেন, ‘চাপ সৃষ্টি না করলে তারা পুরো আলবেনিয়াকে বিক্রি করে দেবে।’
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে চলতি মাসে জানানো হয়, কুশনারের সঙ্গে কাজ করা ডেভেলপারদের কাছে যে ব্যবসায়ী জমি বিক্রি করেছেন, তার মালিকানা সংক্রান্ত নথিতে জালিয়াতির সন্দেহ করছে আলবেনিয়ার প্রসিকিউটররা। মিয়ামি-ভিত্তিক ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কোকেন চোরাকারবারিদের অর্থপাচারের অভিযোগও রয়েছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ডেভেলপাররা দাবি করেছেন যে জমির লেনদেন বৈধ ছিল।
কুশনার এই রিসোর্ট পরিকল্পনা নিয়ে এর আগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, স্ত্রী ইভানকা ট্রাম্পের সঙ্গে প্রমোদতরিতে ভ্রমণের সময় এই আদিম উপকূলটি তার নজরে আসে। তবে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি। ডেভেলপাররা নিশ্চিত করেছেন যে কুশনার সেখানে বিনিয়োগ করেছেন, তবে তার ভূমিকা বা বিনিয়োগের পরিমাণ প্রকাশ করেননি।
চলতি বছরের শুরুর দিকে দুর্নীতির অভিযোগে উপ-প্রধানমন্ত্রী বেলিন্ডা বালুকুর পদত্যাগের দাবিতেও সেখানে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছিল। পরে তাকে বরখাস্ত করা হয়।





