প্রশ্নফাঁসে তোলপাড় ভারত: তরুণদের আন্দোলনে ব্যাকফুটে সরকার

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন
বিদেশে এখন
0

একটি পরীক্ষা কেলেঙ্কারি ভারতে বিদ্রোহের জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরকারকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি দাঁড় করায় দেশটির তরুণরা। অবশেষে তরুণদের আন্দোলনের মুখে সরকার নতি স্বীকারে বাধ্য হয়। সামনে আসে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও শিক্ষা খাতের নানা সংস্কারের বিষয়গুলো। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় ভারতের বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে তরুণ সম্প্রদায়।

ভারতের মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেশ হওয়ার পরও, ভারতে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে বেকারত্বের হার ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এমন অবস্থায় দেশটির অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা দেয় গোটা ভারতকে।

গেল মে মাসের শেষ দিকে ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। যেখান থেকে বেছে নেয়া হয় মাত্র ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীকে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ফলাফল বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ ঘটনায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার।

সন্তানকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন পূরণে টিউশন ফি, বাসস্থান ও পড়াশোনার খরচ জোগাতে পুরো সঞ্চয় ব্যয় করে ফেলে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলো। অনেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এই খরচ জোগাতে গিয়ে নিজের জমিও বিক্রি করেছেন কেউ কেউ। পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে বহু শিক্ষার্থী বেছে নেয় আত্মহননের পথ। এর পেছনে সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন অভিভাবকেরা।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীর দাবি, গেল এক দশকে দেড়শ'র বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। যেগুলো কোনো শাস্তি হয়নি। জেন জি আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, এবার প্রশ্নফাঁসের ২১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

এসব মৃত্যু নিয়ে সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এতদিন। বেশকিছু মামলা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই জানায়, বেসরকারি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক ও দালালরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়েছে। এ ঘটনায় আটক করা হয় বেশ কয়েকজন শিক্ষকসহ ১৩ জন সন্দেহভাজনকে।

এরপরই আন্দোলনে নামে ভারতের তরুণ সম্প্রদায়। দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে জেন-জিরা। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য রাজ্যেও। একটি পরীক্ষার কেলেঙ্কারি ভারতে এভাবেই শিক্ষার্থীদের বিদ্রোহের জন্ম দেয়।

দীর্ঘ ৩৬ দিনের টানা আন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করে মোদি সরকার। পদত্যাগে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা খাতের সংস্কার ও প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে সরকারকে জবাবদিহিতার মুখে দাড় করিয়েছে জেন-জিরা।

তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তায় আঘাত হানা কঠিন বিষয়। দীর্ঘ এক যুগের শাসনামলে নতুন নাগরিকত্ব আইন ও কৃষি সংস্কারসহ বেশকিছু বড় আন্দোলন ভালোভাবেই সামাল দিয়েছে মোদি সরকার।

ইএ