ইউরোপে বাড়ছে ‘আগুনের মেঘের’ শঙ্কা; বিপর্যয়ের মুখে ফ্রান্স

তীব্র খরার মধ্যে ফ্রান্সের ল্য গ্রঁ ক্রোহোতে ভয়াবহ দাবানল থেকে ধোঁয়া উড়ছে
বিদেশে এখন
0

ইতিহাসের এক নজিরবিহীন দাবানল মৌসুমের মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স। এই দাবানলে লাখো মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে সরে যেতে হয়েছে এবং পর্যটন মৌসুমের ভরা সময়ে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তবে শুধু দাবানলের বিস্তৃতিই নতুন রেকর্ড গড়েনি, এর আচরণেও দেখা যাচ্ছে অভূতপূর্ব সব পরিবর্তন। এর মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ হলো ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো ‘পাইরোকিউমুলোনিম্বাস’ বা ‘আগুনের মেঘ’ তৈরি হওয়ার ঘটনা। বিরল এই প্রাকৃতিক ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত এখানে তুলে ধরা হলো—

‘আগুনের মেঘ’ কী?

পাইরোকিউমুলোনিম্বাস হলো এক ধরনের মেঘ, যা বিশাল কোনো দাবানলের ওপর তৈরি হয়। প্রচণ্ড উত্তাপে ধোঁয়া, ছাই ও পানির বাষ্প বায়ুমণ্ডলের অনেক ওপরে উঠে গেলে এই মেঘের সৃষ্টি হয়।

তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইরোজিওগ্রাফি ও ফায়ার সায়েন্সের অধ্যাপক ডেভিড বাউম্যান রয়টার্সকে বলেন, ‘এটিকে একটি চিমনির মতো ভাবা যেতে পারে, যার নিচে আগুন জ্বলছে এবং সেই ধোঁয়া চিমনি বেয়ে সোজা বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে চলে যাচ্ছে।’

ফ্রান্সের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের দাবানল সমন্বয়ক জঁ-ক্রিস্তোফ ভিসঁদ জানান, আবহাওয়াবিদরা এই মেঘ তৈরি হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি শনাক্ত করতে পারলেও কখন বা কোথায় এটি তৈরি হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন না।

দাবানলকে কীভাবে ভয়াবহ করে তোলে?

আগুনের মেঘ দাবানলকে আরও অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক করে তোলে। এই মেঘ প্রচণ্ড বাতাস তৈরি করতে পারে, যা আগুনের গতিপথ বদলে দিতে পারে। এছাড়া এটি বজ্রপাত ঘটিয়ে নতুন নতুন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে দিতেও সক্ষম।

শক্তি ফুরিয়ে গেলে এই মেঘ থেকে ‘প্লিউম কলাপ্স’ নামে পরিচিত একটি ঘটনা ঘটতে পারে। বাউম্যান বলেন, ‘যখন প্লিউম কলাপ্স ঘটে, তখন এটি জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষের বৃষ্টি ঝরায়।’

ইউরোপের জন্য এর অর্থ কী?

ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ গত শনিবার জানিয়েছে, বন্দর নগরী বোরদোর কাছে একটি পাইরোকিউমুলোনিম্বাস দেখা গেছে। ফ্রান্সের ইতিহাসে এটাই এমন মেঘ তৈরি হওয়ার প্রথম রেকর্ড।

জিরোন্দে অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধার বিভাগের প্রধান মার্ক ভারমুলেন বলেন, এই ঘটনা জরুরি বিভাগের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আগুনের অস্থির প্রকৃতির কারণে কর্তৃপক্ষ সতর্কতা হিসেবে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার এলাকা আরও বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।

বাউম্যান বলেন, পশ্চিম ইউরোপে এখন এ ধরনের ঘটনা আরও বেশি ঘটতে দেখা যাবে। সাধারণত কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো বিস্তৃত বন্যপ্রাণ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে থাকে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি অত্যন্ত ভয়াবহ এক পরিণতি। বিষয়টি চমকপ্রদ হলেও একই সঙ্গে ভয়ংকর ও বিপর্যয়করও বটে। আমরা কিছুতেই আর এমন ঘটনা দেখতে চাই না।’

এএম