‘হলুদ সাংবাদিকতার’ অভিযোগ তুলে পাকিস্তানে আল জাজিরা নিষিদ্ধ

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ভবন
বিদেশে এখন
0

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে (পিওকে) সরকারবিরোধী ও নির্বাচন-কেন্দ্রিক বিক্ষোভ দমনে ইসলামাবাদের কঠোর ব্যবস্থার খবর প্রচারের পর কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা না দিলেও পাকিস্তানের অসংখ্য ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তারা আল জাজিরা ইংরেজির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারছেন না। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আল জাজিরার বিরুদ্ধে ‘খণ্ডিত সংবাদ’ প্রচারের অভিযোগ তুলে বলেছে, সংবাদমাধ্যমটি মুজাফফরাবাদের নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সুপরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট সময়ে কিছু মানুষের সাজানো বক্তব্যের মাধ্যমে আল জাজিরা নির্বাচনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছে।’

ইসলামাবাদ এই সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে ‘হলুদ সাংবাদিকতার’ অভিযোগ এনে বলেছে, বাইরের শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই এমনটি করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, মুজাফফরাবাদ ও আজাদ জম্মু-কাশ্মীরের (এজেডকে) জনগণ নৈরাজ্য প্রত্যাখ্যান করেছে, কিন্তু আল জাজিরা তা ভিন্নভাবে তুলে ধরেছে।

এদিকে পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে সংবাদ সংগ্রহের ওপর পদ্ধতিগতভাবে বাধা দেয়ায় শাহবাজ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সেখানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা এবং সাংবাদিকদের আটক ও গুমের খবরগুলো গভীর উদ্বেগের। সিপিজে অবিলম্বে তথ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সিপিজে আরও জানায়, গত ১ আগস্ট থেকে সাংবাদিক রাজি তাহির ও মুহাম্মদ সাইফ নিখোঁজ রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ইসলামাবাদের অফিস থেকে পুলিশের পোশাকে একদল লোক তাদের তুলে নিয়ে যায়। এছাড়া কাশ্মীরের সাংবাদিক রাজা ইকরামকেও ওই দিন আটক করা হয়েছিল, তবে পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

পিওকেতে চলমান অস্থিরতা নিয়ে আল জাজিরার বিস্তারিত প্রতিবেদনের পরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই কঠোর ব্যবস্থা এলো।

এএম