মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে শুল্কারোপ। তার দাবি, উচ্চ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতকে আবারও শক্তিশালী করবে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট ব্যবহার করে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর দুই অঙ্কের শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায় বলেছিলেন, এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নেই ট্রাম্প প্রশাসনের। এছাড়া, যেসব আমদানিকারক দেশ শুল্ক পরিশোধ করেছিলেন, তাদের অর্থ ফেরত দেয়ারও নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত।
এবার নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। তাদের অভিযোগ, বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ওপর এভাবে শুল্ক আরোপ করে আইনি সীমা অতিক্রম করেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে মামলা দায়ের করে ডেমোক্র্যাট শাসিত ২৫টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ও গভর্নরের একটি জোট। যার মধ্যে ওরেগন এবং নিউইয়র্কও রয়েছে।
গেল জুলাইয়ে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ করে নতুন শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের অভিযোগ ছিল, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে এসব দেশ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সুপ্রিম কোর্টে হেরে যাওয়ার পর প্রশাসন আবারও নতুন শুল্ক আরোপ করে আইন ভেঙেছে।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, অন্য দেশের অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণের জবাব হিসেবে এ শুল্ক আরোপ যথাযথ ও আইনসম্মত। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও মার্কিন শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতেই নতুন শুল্ক বসিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এক্ষেত্রে ব্যাপক আকারে শুল্ক আরোপ এই সমস্যা সমাধানে কোনও ভূমিকা রাখবে না।





