শুক্রবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও খনি খাতের নির্বাহীদের বৈঠকের পর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রকল্প ‘খনি থেকে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত পশ্চিমা সংহতি নিশ্চিত করবে’। অন্যদিকে অস্ট্রেলীয় খনি কোম্পানি সানরাইজ এনার্জি মেটালস আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিউ সাউথ ওয়েলসের ফিফিল্ড এলাকায় প্রস্তাবিত এই খনিটি ‘পশ্চিমা বিশ্বের স্ক্যান্ডিয়াম সরবরাহের অন্যতম প্রধান ভিত্তি’ হয়ে উঠবে।
কোম্পানিটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ‘সিয়েরস্টন স্ক্যান্ডিয়াম প্রকল্প’ থেকে পাওয়া এই ধাতু মহাকাশ শিল্প এবং ফাইভজি ও সিক্সজি টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন উচ্চ প্রযুক্তির জন্য ব্যবহৃত হবে। মূলত সামরিক প্রতিরক্ষা, বিমান ও ডেটা সেন্টারের জন্য এই ধাতু অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত অন্যান্য ধাতু উত্তোলনের উপজাত হিসেবে স্ক্যান্ডিয়াম পাওয়া যায়। অ্যালুমিনিয়ামকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে মজবুত করার পাশাপাশি এটি নমনীয় এবং তাপ ও ক্ষয়রোধী হওয়ায় ধাতুটির চাহিদা অনেক বেশি।
নিউ সাউথ ওয়েলসে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঘনত্বের স্ক্যান্ডিয়াম মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে। চীন এই ধাতুর সরবরাহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে আছে। গত বছর প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত পণ্যের জন্য স্ক্যান্ডিয়ামের রপ্তানিতে চীন বিধিনিষেধ আরোপ করলে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরবরাহকারীর সন্ধানে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় গত অক্টোবরে চীনকে মোকাবিলার লক্ষ্যে ট্রাম্প এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ একটি ‘জরুরি খনিজ সহযোগিতা চুক্তি’ সই করেন। ওই চুক্তিতে দুই দেশ ১০০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়।
সানরাইজ ইতিমধ্যে গত বছর প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, খনির উৎপাদন শুরুর প্রথম পাঁচ বছর তারা মোট স্ক্যান্ডিয়ামের ২৫ শতাংশ লকহিড মার্টিনের কাছে বিক্রি করবে। শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও শিল্পনীতিকে জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার একাধিক জরুরি খনিজ ও ব্যাটারি প্রকল্পে ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলার বিনিয়োগ করবে।





