ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ স্থবিরতার জেরে গেল ফেব্রুয়ারি থেকে টালমাটাল বিশ্ব জ্বালানি পরিস্থিতি। সংঘাত নিরসনে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্ব মঞ্চে পাকিস্তান প্রশংসা পেলেও, জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতিসহ একাধিক কারণে দেশটির জনগণ ও বিরোধীদের চাপের মুখে শেহবাজ শরীফ প্রশাসন।
সরকারের জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ বাতিল ও ডিজেলের দৈনিক মূল্য সমন্বয় বাতিলসহ নানা দাবিতে যখন উত্তাল পাকিস্তান, তখন একই দাবতে শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পণ্য পরিবহন সেবা স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে ধর্মঘট পালন করছেন শ্রমিকেরা। এতে করে দেশটিতে ছোট বড় মিলিয়ে ৪ লাখেরও বেশি পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থবির ব্যবসা- বাণিজ্য ও বন্দর পরিষেবা।
এরইমধ্যে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় জ্বালানি মন্ত্রী পারভেজ মালিক ও পাঞ্জাবের প্রাদেশিক মন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেবের পদত্যাগ দাবি করেছেন অল পাকিস্তান গুডস ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট মালিক শেহজাদ আওয়ান।
তবে কেন্দ্রীয় জ্বালানি মন্ত্রীর দাবি, মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল থাকায়, সরকার দৈনিক ভিত্তিতে জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এই দাম আন্তর্জাতিক জ্বালানির সাত দিনের দরের গড় করে নির্ধারণ করা হয়। সোমবার বিরোধ নিরসনে পরিবহন নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে দাবি আদায় না হলে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন পরিবহন শ্রমিকেরা।
এদিকে, ধর্মঘট দীর্ঘস্থায়ী হলে কাঁচামালের অভাবে ,কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের শিল্প মালিকদের সংগঠনের নেতারা। একারণে অবিলম্বে সরকারকে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ সমাধানের আহ্বান শিল্প মালিকদের।





