প্রতিরক্ষা ব্যয় ১৬ শতাংশ বাড়াচ্ছে তাইওয়ান; ছাড়িয়ে যাবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার

তাইপে সিটির মর্টার ব্যাটালিয়নের সামরিক রিজার্ভ সদস্যরা
বিদেশে এখন
0

চীনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে সামরিক শক্তি বাড়াতে ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেট বার্ষিক ১৬ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে তাইওয়ানের মন্ত্রিসভা। এই বাজেট প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার) ছাড়িয়ে যাবে। আজ (রোববার, ৯ আগস্ট) তাইওয়ানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (সিএনএ) বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে চীন নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। বেইজিংয়ের এই দাবি নাকচ করলেও গত কয়েক বছরে তাইওয়ানের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েই চলেছে চীন। এদিকে ইউরোপের মিত্রদের মতো তাইওয়ানকেও নিজস্ব প্রতিরক্ষায় ব্যয় বাড়াতে চাপ দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে।

সিএনএ জানিয়েছে, আগামী ২০ আগস্ট প্রস্তাবিত এই বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। এতে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি তাইওয়ানি ডলারের বেশি বরাদ্দ থাকবে; যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশের বেশি। এই বাজেটে কোস্ট গার্ড, সাবেক সেনাসদস্য (ভেটেরানস) এবং বিশেষ প্রকল্পগুলোর জন্যও অর্থ বরাদ্দ থাকবে। বাজেটের বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত বৈঠকের পর জানা যাবে।

তাইওয়ান সরকার সামরিক আধুনিকীকরণকে অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে। চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকি বিবেচনায় দেশটি ‘মেড ইন তাইওয়ান’ সাবমেরিন তৈরিসহ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। চীনের সামরিক বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানকে ঘিরে তৎপরতা চালাচ্ছে এবং নিয়মিত সামরিক মহড়া দিচ্ছে। সর্বশেষ এমন মহড়া হয়েছে গত ডিসেম্বরের শেষে। বেইজিংও দ্রুত তাদের সামরিক বাহিনী আধুনিকীকরণ করছে; নতুন বিমানবাহী রণতরী, স্টেলথ যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করছে বহরে। গত মার্চে চীন চলতি বছরের প্রতিরক্ষা ব্যয় ৭ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ৯১ হাজার কোটি ইউয়ান (২৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার) করার ঘোষণা দিয়েছে।

চীন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাইকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ আখ্যা দিয়ে তার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। লাইয়ের বক্তব্য, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র সেখানকার জনগণেরই।

তাইওয়ানে এখন বার্ষিক ‘হ্যান কুয়াং’ সামরিক মহড়া চলছে। রোববার উত্তরাঞ্চলীয় তাওইউয়ান শহরে সেই মহড়া পরিদর্শনকালে লাই চিং-তে বলেন, প্রতিটি মহড়াই সামরিক বাহিনীর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শান্তির সময়ে করা প্রতিটি প্রস্তুতি আমাদের জাতির জন্য বাড়তি স্থিতিশীলতা ও শক্তি যোগ করে।’ একই দিন তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে সামরিক বাহিনী পরমাণু, জীবাণু ও রাসায়নিক (এনবিসি) দূষণমুক্তকরণের একটি মহড়া চালিয়েছে। রাসায়নিক হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখে সেনা, ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দূষণমুক্ত করে ফের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর সক্ষমতা যাচাই করাই ছিল এর লক্ষ্য।

এএম