যুদ্ধকালীন নেতৃত্বে বড় রদবদল ইরানের; নতুন সেনাপ্রধান ও নৌপ্রধান নিয়োগ

মোহসেন রেজায়ি
বিদেশে এখন
0

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির কার্যালয় থেকে দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা ও সামরিক পদগুলোতে বড় ধরনের রদবদলের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অভিজ্ঞ সমরবিদ মোহসেন রেজায়িকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব ও সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

রোববার ও সোমবার এই নিয়োগগুলোর ঘোষণা আসে। মোহসেন রেজায়ির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে আলী আবদুল্লাহি এবং আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে আলী ওজমায়িকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত মোহাম্মদ পাকপুরের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আইআরজিসি-র নতুন কমান্ডার-ইন-চিফ হয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ওয়াহিদি।

বিশ্লেষকদের মতে, ৭১ বছর বয়সী মোহসেন রেজায়ির এই নিয়োগ ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মোহসেন রেজায়ি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া গত জুনের সমঝোতা স্মারকের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘ব্যবহার সংশোধন’ না করলে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এমনকি অতীতে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ হলে হাজার হাজার মার্কিন সেনাকে বন্দী করে বিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট মেটানো সম্ভব।

রেজায়ির এই নিয়োগ নিয়ে ইসরাইল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মোহসেন রেজায়ি ও ওয়াহিদিকে ‘সন্ত্রাসের উপাসক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার ইহুদি কেন্দ্রে বোমা হামলার ঘটনায় ইন্টারপোল মোহসেন রেজায়ির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে রেখেছিল।

নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত সংবাদমাধ্যম ‘নূরনিউজ’ এক সম্পাদকীয়তে জানিয়েছে, মোহসেন রেজায়ির নিয়োগ ইরানের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ‘কৌশলগত পুনর্গঠনের’ অংশ। এর মাধ্যমে সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতির মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে। এদিকে, সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি সুস্থ আছেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটাতে শিগগিরই তার নতুন ছবি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি-র আধা সামরিক সংগঠন বাসিজি।

এএম