‘শতাব্দীর সেরা’ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার অপেক্ষায় স্পেন ও আইসল্যান্ড

সূর্যগ্রহণের আগের দিন সূর্যাস্ত দেখছেন এক পর্যটক
বিদেশে এখন
0

স্পেন ও আইসল্যান্ডজুড়ে আজ (বুধবার, ১২ আগস্ট) পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা পুরোপুরি দেখা যাবে এমন এলাকাগুলোতে বিশেষ চশমা সঙ্গে নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন তারা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সূর্যগ্রহণ নিয়ে মানুষের কৌতূহল বহু পুরনো। ইতিহাসে দিনের আকাশ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়ার এই ঘটনাকে অনেক সময় অশুভ ইঙ্গিত, মহাজাগতিক লড়াই বা ঐশ্বরিক শক্তির প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। আধুনিক আকাশপ্রেমীরাও ওই একই বিস্ময়কর অনুভূতি পেতে চান, যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে চলে আসায় দিন কিছু সময়ের জন্য গোধূলির রূপ নেয় এবং কিছু প্রাণী নীরব হয়ে পড়ে।

স্পেনের বিজ্ঞানবিষয়ক সচিব হুয়ান ক্রুস বলেন, ‘আমার আশা, আজ রাতের এই ঘটনা থেকে জ্যোতির্পদার্থবিদদের একটি অসাধারণ প্রজন্ম উঠে আসবে। এটি একটি অত্যন্ত বিশেষ মুহূর্ত।’ তিনি জানান, স্পেনের উত্তরাঞ্চল ও ব্যালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে যাওয়া গ্রহণের ছায়াপথে থাকা মূলত গ্রামীণ এলাকাগুলোতে প্রায় ৬০ লাখ পর্যটকের সমাগম আশা করা হচ্ছে। স্পেনে এই সূর্যগ্রহণের পরপরই সূর্য অস্ত যাবে, যা এই ঘটনাকে আরও মোহনীয় করে তুলবে।

চলতি বছরের এই সূর্যগ্রহণ দাবানলের সর্বোচ্চ ঝুঁকির সময়ের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় স্পেন ব্যাপক পুলিশি অভিযান ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে। এ ছাড়া সরকার এই সুযোগে খুব কম মানুষের চোখে পড়া অঞ্চলগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে এবং উপকূলের অতিরিক্ত পর্যটক ভিড় সমুদ্রসৈকত থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে দিতে চাইছে। আইবেরিয়ান উপদ্বীপে সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়েছিল ১৯১২ সালে। এরপর ২০২৭ সালের ২ আগস্ট এবং ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ হবে, যা মিলে ‘আইবেরিয়ান ইক্লিপস ট্রায়ো’ পূর্ণ করবে।

আরও পড়ুন:

আইসল্যান্ডে গ্রহণ-জ্বর
আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকজাভিকে গ্রহণ দেখার বিশেষ চশমা কয়েক দিন ধরেই বিক্রি শেষ। প্রায় ৪ লাখ মানুষের এই নর্ডিক দেশটি ৮০ হাজার পর্যটকের আগমনের আশা করছে। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটে আইসল্যান্ডের পশ্চিমতম উপকূলে চাঁদের ছায়া প্রবেশ করবে এবং তারপর দ্রুত পূর্ব দিকে সরে যাবে। সবচেয়ে পশ্চিমাঞ্চলে পূর্ণগ্রহণের সময়কাল হবে ২ মিনিট ১৩ সেকেন্ড পর্যন্ত। বেশির ভাগ শহরে অবশ্য অন্ধকারের সময়কাল কিছুটা কম থাকবে। কর্তৃপক্ষ যানজটের বিষয়ে সতর্ক করে দর্শকদের আগেভাগে পৌঁছাতে বলেছে।

রেইকজাভিকের দক্ষিণে গ্রহণকেন্দ্রিক এক অনুষ্ঠানে ডিজে হিসেবে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে খ্যাতিমান গায়িকা ব্যর্কের। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা চাঁদের ছায়া অনুসরণ করতে আইসল্যান্ড থেকে একটি ‘ডব্লিউবি-৫৭’ উড্ডয়ন করাবে। এ ছাড়া নাসা-অর্থায়িত দলগুলো হঠাৎ অন্ধকার নেমে আসা ও ঠান্ডা হওয়ার প্রভাব বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে কেমন হয় তা গবেষণার জন্য বেলুন উৎক্ষেপণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে আসা দর্শনার্থী ক্রিস্টা কার্ন বলেন, ‘এটি সত্যিই দারুণ বিষয়। পুরো শরীরে অনুভূত হওয়ার মতো একটি অনুভূতি।’

এ ছাড়া সাধারণ দর্শকদের বাইরে ‘ইক্লিপস চেজার’ বা গ্রহণ-শিকারিরাও এই ঘটনায় আকৃষ্ট হচ্ছেন। ছয়টি পূর্ণগ্রহণের ছবি তোলা যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত প্লাস্টিক সার্জন ও অপেশাদার জ্যোতির্বিদ গর্ডন টেলিপান জানিয়েছেন, তিনি স্পেনের মায়োর্কা দ্বীপ থেকে এই দৃশ্য উপভোগ করবেন। তার মতে, ‘আগস্টে সেখানকার আবহাওয়া ভালো থাকার সম্ভাবনা বেশি, পূর্ণগ্রহণের সময়কাল দেড় মিনিটের বেশি এবং সেখানে যাতায়াতও সহজ।’

আরও পড়ুন:

এএম