ইউরোপে ড্রোন যুদ্ধ শেখার ইউনিট বন্ধ; ‘১৭৩তম এয়ারবর্ন ব্রিগেড’কে মূল দায়িত্বে ফেরার নির্দেশ

মার্কিন সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অব স্টাফ জেনারেল ক্রিস্টোফার লানেভ
বিদেশে এখন
0

ইউরোপে অবস্থানরত ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী’র একটি ইউনিটকে ড্রোন যুদ্ধবিদ্যা শেখা ও ব্যবহারের কাজ বন্ধ করে আবার ‘ঐতিহ্যগত’ ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন হিসেবে কাজ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল(বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট) মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘১৭৩তম এয়ারবর্ন ব্রিগেড’-এর ওই ইউনিট গত প্রায় এক বছর ধরে ড্রোন তৈরি ও ব্যবহার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিল। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে ড্রোনভিত্তিক যুদ্ধপদ্ধতি কীভাবে পরিচালিত হয়, তা শিখতে তারা মহড়ায়ও অংশ নেয়। গত বছরের নভেম্বরে প্রায় ৬০০ সেনাসদস্য নিয়ে একটি ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়, যার কাজ ছিল ড্রোন যুদ্ধবিদ্যায় বিশেষায়িত হওয়া এবং প্রয়োজনে যে কোনো স্থানে মোতায়েনযোগ্য একটি ‘ডেডিকেটেড’ ইউনিট হিসেবে প্রস্তুত থাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী’র ভারপ্রাপ্ত চিফ অব স্টাফ জেনারেল ক্রিস্টোফার লা নেভ ব্রিগেডকে তাদের মূল এয়ারবর্ন ইনফ্যান্ট্রি দায়িত্বে মনোযোগ দিতে বলেছেন। সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ আগেই এ পরিবর্তনের খবর প্রকাশ করেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত এসেছে সেনাবাহিনীর বিস্তৃত পুনর্বিন্যাসের মধ্যে। ‘পেন্টাগন’-এর কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হঠাৎ করে জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে সরিয়ে দেয়ার পর লা নেভ শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধের কথাও এসেছে। সেখানে ইরান কম খরচের ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করে জাহাজ ও ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়া, সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়া এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত খরচ হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত মার্চে বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচটি দেশকে ইরানি ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সহায়তা করছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কয়েকটি রাষ্ট্রও সহায়তা চেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

‘১৭৩তম এয়ারবর্ন ব্রিগেড’-এর ড্রোন নিয়ে কাজ গত নভেম্বরে ব্যাটালিয়ন তৈরির আগেও চলছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী’ জানায়, ইতালির ‘কাসেরমা দেল দিন’ ঘাঁটিতে একটি ‘ফার্স্ট-পার্সন ভিউ’ ড্রোন ল্যাবে ওই ব্রিগেডের সেনারা নিজেদের আক্রমণাত্মক ড্রোন নকশা ও তৈরি করছেন। সে সময় ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল জোশুয়া গ্যাসপার্ড সেনাবাহিনীর এক পোস্টে বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের ড্রোন ভিডিও ‘ইনস্টাগ্রাম’ ও সংবাদমাধ্যমে দেখে তার সেনারা এসব ব্যবস্থায় কাজ করতে আগ্রহী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিটটি জ্যামিং-প্রতিরোধী ড্রোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত কিছু ধারণা নিয়েও কাজ করেছে।

সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ মাস ও আগামী মাসে জার্মানিতে দুটি বড় মহড়া শেষে বিশেষায়িত ড্রোন ইউনিটটি তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা গুটিয়ে নেবে। পরে গত এক বছরের অভিজ্ঞতা ও তথ্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ কাঠামো ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিকল্পনায় তা কাজে লাগে। আরেক কর্মকর্তা বলেন, ওই মহড়াগুলোকে শুরু থেকেই ‘চূড়ান্ত ধাপ’ হিসেবে ধরা হচ্ছিল এবং এরপর ইউনিটের ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল্যায়ন হওয়ার কথা ছিল।

ড্রোনকে সেনাবাহিনীর কৌশলে যুক্ত করার বিষয়টি লা নেভের পূর্বসূরি জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জের সময় বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জর্জ ও সেনাবাহিনী সচিব ড্যান ড্রিসকল গত বছর ‘আর্মি ট্রান্সফরমেশন ইনিশিয়েটিভ’ ঘোষণা করেন, যার লক্ষ্য ছিল বাহিনীতে আধুনিক চালকবিহীন উড়োজাহাজ ব্যবস্থা যুক্ত করা। জর্জ বিভিন্ন সময় বলেছেন, নতুন ড্রোন ব্যবস্থা দ্রুত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া দরকার, যাতে সাধারণ সৈনিকেরাও তা ব্যবহার করতে পারে।

লা নেভ বুধবার সেনাবাহিনীর জন্য প্রকাশিত এক নির্দেশনামূলক নথিতে লিখেছেন, পরের যুদ্ধ আগের যুদ্ধের মতো হবে না এবং স্বায়ত্তশাসন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে মানব দক্ষতা ও বিচার-বিবেচনা মিলিয়ে দ্রুত শেখা ও অভিযোজন জরুরি। তবে ওই নথিতে ড্রোনের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এএম