উল্লেখ্য, কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট এবং বীরভূমের তারাপীঠ উভয় স্থানই বাংলাদেশি পর্যটক, চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী ও পুণ্যার্থীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয়। প্রতিনিয়ত বহু বাংলাদেশি এসব এলাকার হোটেল ও গেস্টহাউসে অবস্থান করেন, যা তাদের নিরাপত্তার সুরক্ষাকেও সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ফায়ার সার্ভিস বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট এবং ফায়ার লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে নীতিগত কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তখন হোটেলমালিকদের ‘স্বঘোষণা’ (সেলফ-ডিক্লারেশন) এবং ফায়ার স্টেশনের স্থানীয় কর্মকর্তাদের (স্টেশন অফিসার) সরাসরি অনুমোদন দেয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা দেয়া হয়। এরপর ওই ফায়ার সার্টিফিকেটের ওপর ভিত্তি করেই স্থানীয় পৌরসভা ট্রেড লাইসেন্স এবং বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ দিয়ে দিত। ফলে কোনো সঠিক তদারকি বা সরাসরি মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাই ছাড়াই বহু ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল ও লজ বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
পরপর দুটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এই নিয়মের মারাত্মক গলদ প্রকাশ্যে আসায় এখন নীতিগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তাদের একক ক্ষমতা বাতিল করে অন্তত দুই থেকে তিন স্তরের তদারকির মাধ্যমে ফায়ার সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে। পাশাপাশি কেবল ফায়ার সার্টিফিকেটের ওপর ভরসা না করে, পৌরসভা ও বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোকেও ট্রেড লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার আগে নিজস্ব উদ্যোগে ভবনের সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি ও যাচাই করতে হবে।





