বছরে অন্তত এক মাস তীব্র পানির সংকটে থাকে বিশ্বের প্রায় চারশো কোটি মানুষ। জাতিসংঘের তথ্য মতে, বিশ্বের দুইশ কোটির বেশি মানুষ নিরাপদ ও সুপেয় পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শুধু তাই নয়, পর্যাপ্ত পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। তীব্র হচ্ছে খাদ্য সংকট।
চলতি বছরে পানি নিয়ে সংঘাত সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা ২০২০ সালের পর বেড়েছে প্রায় চারগুণ। পানি নিয়ে এসব সংঘাতের ঘটনার তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সম্প্রতি পানি-সংক্রান্ত সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পানির নিরাপত্তা এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্যাসিফিক ইনস্টিটিউটের মতে, ২০২৪ সালে পানি নিয়ে সংঘাতের রেকর্ড ৪২০টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। যা প্রতি বছরই তীব্র হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
পানি-সম্পর্কিত সংঘাতের কারণ কী?
সম্প্রতি, সংঘাতের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে পানির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হচ্ছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়, কৃষক, পশুপালক বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাতের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পানির অভাব ও অসম বণ্টনকে। এছাড়া, প্রতিপক্ষকে দুর্বল বা ঘায়েল করতে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে অনেকে।
২০২৬ সালে পানি-সংক্রান্ত সংঘাতগুলো সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউক্রেন, ফিলিস্তিন, সুদান, ইরানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে। মূলত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতে এই পরিস্থিতি ব্যাপক আকারে রূপ নিয়েছে।
ইউনিসেফের তথ্যমতে, প্রায় ৭০ শতাংশ গাজাবাসী খাবার ও রান্নার পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না। উপত্যকায় পানির দাম বেড়েছে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত। সুদানে গেল ৩ বছরের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে বেশিরভাগ জলাধার, শোধনাগার, বিতরণ নেটওয়ার্কসহ পানির অবকাঠামো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় চরম সংকটের মুখে ইরানের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। কিছু জলাধারের পানির স্তর নেমে গেছে ৯২ শতাংশ পর্যন্ত। সমুদ্রের লবনাক্ত পানিকে ব্যবহার উপযোগীর জন্য পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল উপসাগরীয় দেশগুলো। যুদ্ধে এসব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বড় সংকটের মুখে তারা।
এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে পানি ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে ইউক্রেনে। পর্যাপ্ত পানির সরবরাহের অভাবে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ।





