আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের। আমরা প্রায় এক মাস ধরে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য ফলাফলে পৌঁছেছি।’ তিনি জানান, প্রণালির কতটুকু অংশের ওপর কার অধিকার থাকবে এবং এর রাজস্ব কীভাবে ভাগ হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে।
তবে চুক্তিটি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ তুলেছে আইআরজিসি। হোসেইন মোহেব্বি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি বাধা দেয়া বন্ধ করে এবং চুক্তিতে ফিরে আসে, তবে আমরা চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারি। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের শর্ত না মানলে কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।’
গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করেছে।
ইরানের অবরোধ এড়াতে তেলবাহী জাহাজগুলো অভ্যন্তরীণ যে স্থানান্তর প্রক্রিয়া ব্যবহার করছিল, তা বন্ধ করতে সম্প্রতি ৪৫টি জাহাজের একটি কালোতালিকা প্রকাশ করেছে তেহরান। অন্যদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে এমন উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ সমাধানের আশা দেখা দেয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ২ ডলারের বেশি কমে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে।





