নেপালে নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষা; ছবি হাতে হাসপাতাল-থানায় পরিবার

নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় পরিবার
বিদেশে এখন
0

নেপালে বিধ্বংসী দুর্যোগে নিখোঁজদের অপেক্ষায় তাদের স্বজনেরা। হাসপাতাল, থানা ও দুর্যোগ এলাকায় প্রিয়জনের ছবি হাতে ঘুরছেন তারা। কখন ঘরে ফিরবে, খুঁজে পাবে তাদের স্বজনদের সেই আশায় ভারতীয় পরিবারগুলো। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার এক বৃদ্ধ দম্পতি ফিরে এসেছে। এদিকে, নিখোঁজ প্রিয়জনদের সন্ধানে এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পরিবারগুলো। এর মাঝেই অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলো গণকবর দিচ্ছে নেপালি কর্তৃপক্ষ।

ঘন বন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত নেপালের চিতওয়ান জেলা এখন পরিণত হয়েছে শত শত অজ্ঞাতপরিচয় মানুষের গণকবরে। কিছুদিন আগেও বনের এই মনোরম পরিবেশের পথগুলো ছিল দর্শনার্থী হাঁটার জায়গা। এখন সেগুলো তা হয়ে উঠেছে সমাধিক্ষেত্র। পরিচয় মেলেনি এবং পচেগলে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না শত শত মরদেহ। তাদের ঠাঁই হচ্ছে এসব গণকবরে।

নদী ও ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে একের পর এক মরদেহ। তাদের শনাক্তে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা। মরিয়া হয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতাল, থানা, অস্থায়ী ক্যাম্প ও দুর্যোগ এলাকায় প্রিয়জনের অপেক্ষায় স্বজনদের দীর্ঘ সারি।

স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘আমার ভাইকে খুঁজতে নুয়াকোট ও ত্রিশূলিসহ অনেক জায়গায় গিয়েছি। এখন পর্যন্ত তার সন্ধান পাইনি। সবাই তাদের প্রিয়জনকে শনাক্ত করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে।’

গভীর উদ্বেগ নিয়ে ভারতীয় পরিবারগুলো অপেক্ষা করছে নিখোঁজ স্বজনদের। কখন তারা ঘরে ফিরবে, আদৌ খুঁজে পাবে তাদের প্রিয়জনকে খুঁজে পাবে কিনা তা নিয়ে শংসয়। জীবিত না হোক অন্তত মরদেহটা চান তারা।

নিখোঁজদের পরিবারের স্বজনদের একজন বলেন, ‘কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস ও দিল্লির আসাম হাউজে যোগাযোগ করেছি। এখন পর্যন্ত আমাদের স্বজনদের কোনো খবর পাইনি।’

এদিকে, নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে জীবিত ফিরে এসেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার এক বৃদ্ধ দম্পতি। গেল ২৬ আগস্ট কৈলাসে যাওয়ার পথেই তাদের চোখের সামনে ঘটে যায় বিধ্বংসী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে প্রলয়ংকারী পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে অনেক মরদেহ ভেসে এসেছে ভারতের উত্তর প্রদেশে। রাজ্যের কুশীনগর থেকে বেশ কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আরও মরদেহ পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গেল বুধবারের বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে মৃত্যুপুরীতে রূপ নেয় হিমালয় কন্যা নেপাল। বিপুল পরিমাণ পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নিয়ে ঢলটি ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এতে একইভাবে দুর্যোগ নেমে আসে তিব্বত সীমান্তেও। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জীবিত সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, জিরং বন্দরের দুটি প্রবেশপথ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যেতে পারছে না উদ্ধারকর্মীরা।

এফএস