সরকারি তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় জুন প্রান্তিকে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.৮ শতাংশ, যা রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকদের ৭.১ শতাংশ পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাতের শক্তির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে পঞ্চম স্থানে থাকা দেশটির এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে সাবেক অর্থ সচিব সুভাষ চন্দ্র গর্ভ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আগের বছরের একই সময়ের জিডিপির আকার কমিয়ে দেখানোর কারণে প্রবৃদ্ধির হিসাব বেশি দেখাচ্ছে।
রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) সাবেক গভর্নর রঘুরাম রাজন প্রশ্ন তুলেছেন, এই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, দেশিয় বিনিয়োগ এবং বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগে তার প্রতিফলন কেন দেখা যাচ্ছে না? কিছু বেসরকারি অর্থনীতিবিদও মনে করেন, মূল্যস্ফীতি বাদ দিয়ে প্রকৃত জিডিপি বের করার ডিফ্লেটর সূচকটিতে আসল মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দেখানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া এই বিতর্ক নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেছে। কংগ্রেস দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তথ্যকে ‘পরিসংখ্যানের কসরত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের কারণে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করার পর থেকে মোদি সরকার কর্মসংস্থান ও সুযোগের অভাব নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পরিসংখ্যান বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জিডিপি গণনার পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তি দেন। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে পদ্ধতিতে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা দীর্ঘ আলোচনার ফল।
তবে এই বিতর্কের মধ্যেও কয়েকটি নির্দেশক ভারতের অর্থনীতির শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগস্টে গাড়ি বিক্রি ২১ শতাংশ বেড়েছে, ব্যাংকের ঋণপ্রবাহ এক দশকের সর্বোচ্চ ১৯ শতাংশে পৌঁছেছে এবং এপ্রিল-আগস্ট মেয়াদে আয়কর সংগ্রহ বেড়েছে ২৩ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) কয়েক বছরের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।





