রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে এক অর্থনৈতিক ফোরামে দেয়া বক্তব্যে পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সমর্থন দিতে প্রস্তুত। তবে সবশেষে এই সমস্যার সমাধান সরাসরি যুদ্ধরত দুই পক্ষকেই করতে হবে। তিনি বলেন, ‘যারা এই বিরোধ মেটাতে অবদান রাখার চেষ্টা করছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। প্রশ্ন থাকতে পারে এখনো কি কোনো সুযোগ আছে? আমার মতে, হ্যাঁ সুযোগ এখনো রয়েছে।’
এদিকে কিয়েভে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা শান্তি প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, শান্তি প্রচেষ্টায় এবার আমরা একটি নতুন গতি দেখতে পাব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা ফের সক্রিয় হচ্ছে।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে সাংবাদিকদের তিনি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই যুদ্ধ নিয়ে কোনো পক্ষের এমন আশাবাদী অবস্থান বিরল। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বৈঠকে বসেছিল দুই পক্ষ। কিন্তু এরপর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ সরে গেলে উভয় দেশ একে অপরের ভূখণ্ডের গভীরে বিমান হামলা জোরদার করে। পাল্টাপাল্টি বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দামও বেড়ে যায়। তবে যুদ্ধ থামার সম্ভাবনায় পুতিনের বক্তব্যের পর শিকাগো বাজারে গমের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে।
আশার কথা শোনালেও উভয় পক্ষই নির্দিষ্ট কোনো অগ্রগতির কারণ স্পষ্ট করেনি। বরং পুতিন অভিযোগ করেন, বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলা এবং বিমানে হামলার হুমকি শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলছে। এগুলোকে তিনি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যা দেন। এর আগে চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার আকাশসীমা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। তবে তারা শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
পুতিন আরও জানান, ইউক্রেনের সঙ্গে এখনও তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এসব যোগাযোগ কতটা শান্তি চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে যোগাযোগ বহাল রয়েছে এবং নিয়মিত চলছে। মূলত গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমেই এ যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।’
কিয়েভে সিবিহার পাশে উপস্থিত হয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘যেকোনো উপায়ে ভারত যদি কোনো সহায়তা করতে পারে, আমরা পাশে আছি।’ এর আগে গত সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মানবতার স্বার্থে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান এবং নয়াদিল্লি শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো উদ্যোগে সমর্থন দেবে বলে আশ্বস্ত করেন।





