আগ্রাসী বন্যার উত্তাল স্রোতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ধসে গেল তিনতলা ইটের বাড়ি। মাত্র কয়েক ফুট দূরে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে হতভম্ব স্থানীয়রা। ঘটনাটি চীনের দক্ষিণাঞ্চলী প্রদেশ ফুজিয়ানের। বড় বিস্ময়কর প্রকৃতি'র এমন আচরণ। মাত্র ৯ দিন আগে তিব্বত সীমান্তে পাহাড়ি ঢলের পর ঠিক এমনই দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিল বিশ্ববাসী।
আবার ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝৌ শহরের অধিকাংশ রাস্তায় মোটর গাড়ির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে চলছে ছোটবড় নৌকা। প্রবল বৃষ্টিপাতে তলিয়ে যায় নিচু এই শহরটি। হঠাৎ বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় একটি স্কুল প্রাঙ্গণে আটকা পড়েন আড়াই হাজার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, পরে তাদের নৌকায় করে উদ্ধার করা হয়।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যা আর ধসের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই বছরের সপ্তম টাইফুন সাউডেলের কবলে পড়েছে চীনের দক্ষিণাঞ্চল। দক্ষিণ চীন সাগর থেকে শক্তি সঞ্চয় করে টাইফুনটি বৃহস্পতিবার ফুজিয়ান প্রদেশের ঝাংঝৌ শহরে তৃতীয়বারের মতো আঘাত হানে। গেল দুইমাসে এই নিয়ে তৃতীয়বার টাইফুনের কবলে পড়লো ফুজিয়ান। রাতারাতি বন্যার কবলে লাখ লাখ মানুষ।
আরও পড়ুন:
টাইফুনের প্রভাবে টানা ৩ দিনের অব্যাহত বৃষ্টির পর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে জারি হয়েছে আকস্মিক বন্যা সতর্কতা, আছে ভূমি ও পাহাড় ধসের আশঙ্কাও। রাতারাতি ফুজিয়ান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৮৩,০০০-এরও বেশি বাসিন্দাকে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, ফুজিয়ান ও ঝেজিয়াং প্রদেশে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর গুয়াংডং-এর ওপর দিয়ে পশ্চিম দিকে সরে যেতে পারে ঝড়টি।
চীনা আবহাওয়া দপ্তরের মতে, চীনের উপকূলীয় অঞ্চলে আবহাওয়ার এই অনিয়মিত পরিবর্তন খুবই বিরল, এরসঙ্গে এল নিনো খুবই ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
এদিকে, দাবানল মৌসুম শেষ হতে না হতেই নজিরবিহীন ঝড় ও রেকর্ড বৃষ্টিপাতের কবলে কানাডার সবচেয়ে জনবহুল গ্রেটার টরোন্টো অঞ্চল। সঙ্গে যোগ হয়েছে বন্যা আর শিলাবৃষ্টি। জলাবদ্ধতার জেরে ডুবে গেছে টরোন্টোর অধিকাংশ মহাসড়ক। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হাজার হাজার মানুষ। ডুবন্ত গাড়ি, বিকল লিফট এবং ভেঙে পড়া ভবনে আটকে পড়া বহু মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু বৃহস্পতিবারই দেড় হাজারেরও বেশি জরুরি ফোন পেয়েছে টরোন্টোরর ফায়ার সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট। এই ঝড়কে বলা হচ্ছে, হান্ড্রেড ইয়ার স্টর্ম, যার অর্থ, একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বছরে যদি ১০০ ঝড়ও আঘাত হানে, এমন ঝড় একটির বেশি দেখা যাবে না।





