ডেটা সেন্টারে মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার, যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ শতাধিক এলাকায় নিষেধাজ্ঞা

ডেটা সেন্টারে মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার, যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ শতাধিক এলাকায় নিষেধাজ্ঞা
বিদেশে এখন
0

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে বিশালাকার ডেটা সেন্টারের সংখ্যা। তবে এসব সেন্টারের দিনরাত চলমান তীব্র শব্দ, ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় এবং মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে এখন এ শিল্পকে ঘিরে সাধারণ মানুষের তীব্র অসন্তোষ ও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার একটি বিশালাকার ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ভারী খনন ও গাছ কাটার কারণে এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিদূষণসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ভার্জিনিয়ায় গুগলের ডেটা সেন্টারের দিনরাত চলমান তীব্র যন্ত্রের শব্দের কারণে প্রতিবেশীরা রাতে ঘুমাতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ৪ হাজারের বেশি ডেটা সেন্টার রয়েছে এবং আরও দেড় হাজারের বেশি কেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ৭৫ শতাংশ মার্কিন ভোটার নিজেদের এলাকায় ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করছেন। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহারের কারণে ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ও টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পাঁচ শতাধিক কাউন্টিতে ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ইউরোপে আয়ারল্যান্ডে এ সংকট সবচেয়ে তীব্র রূপ নিয়েছে। দেশটির শতাধিক ডেটা সেন্টার ২০২৫ সালে জাতীয় গ্রিডের মোট বিদ্যুতের প্রায় ২৩ শতাংশ ব্যবহার করেছে, যা দেশের সব পরিবারের সম্মিলিত বিদ্যুৎ খরচের প্রায় সমান। এর ফলে রাজধানী ডাবলিনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় নতুন ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ সংযোগে কঠোর শর্তারোপ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যৎ এআই প্রযুক্তির বিকাশ কেবল উন্নত অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভর করবে না। বরং এ বিপুল গণনাকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের সীমা এবং স্থানীয় জনগণের দাবি কতটা সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করবে এ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ।

এএম