ইরানের হামলায় জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য, হরমুজে ১০ জাহাজে হামলা

ওমান উপসাগরে হামলার পর ডুবে যাচ্ছে ইরানি তেলবাহী জাহাজ ‘এম/টি রিসকো’
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পাঁচটি ইরানি তেলের ট্যাংকার ধ্বংসের প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। একই সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার ইরানের পাঁচটি তেলের ট্যাংকার ধ্বংস করার কথা জানায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে আইআরজিসির উপর্যুপরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল বলে দাবি করে ওয়াশিংটন। কলম্বিয়া সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যতবার তারা এমন চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের ট্যাংকার হারাতে হবে।’

মার্কিন হামলার পরই জর্ডানের আজরাক এলাকায় মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে আইআরজিসি। তবে জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ২০টির মধ্যে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে এবং দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ফাঁকা জায়গায় পড়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মার্কিন কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে হামলায় তাদের কোনো সেনা সদস্যের ক্ষতি হয়নি।

এদিকে হরমুজ প্রণালির নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে দুটি মার্কিন নৌযান ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান বন্দরে একটি এলএনজি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হরমুজে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং সৌদি আরবে হুথিদের হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটি এবং আবহা, নাজরান ও জাজান শহরের তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীরা। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।

এএম