ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের কঠোর পদক্ষেপ

ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া কাঁদানে গ্যাসে পালাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা
বিদেশে এখন
0

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের সমর্থনে বসতি স্থাপনকারীরা জাতিগত নিধন চালাচ্ছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারত্বকে পুরোপুরি অবৈধ ঘোষণা করে অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞাসহ একগুচ্ছ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দেশটি। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে এই নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকার একমত যে বসতি স্থাপনকারী সন্ত্রাসীরা ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর জাতিগত নিধন চালাচ্ছে। ইসরাইল সরকার প্রায়ই এতে চোখ বন্ধ করে রেখেছে এবং সরকারের অনেকে এই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির পক্ষে বক্তব্যও দিয়েছেন।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে জানান, ইসরাইলবিরোধী আখ্যা পাওয়ার ভয়ে যুক্তরাজ্য এতদিন পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করেছে। তবে অন্যায়ের মুখে আর নীরব থাকা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল মুখে দুই রাষ্ট্র সমাধানের কথা না বলে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে।

ব্রিটেনের ঘোষিত নতুন পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—অবৈধ বসতি গুলো থেকে উৎপন্ন পণ্যের আমদানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা, দখলদারত্বে সহায়তা করে এমন কোনো সামরিক সরঞ্জাম বা অস্ত্রের লাইসেন্স না দেয়া, অবৈধ বসতি নির্মাণ বা অর্থায়নে যুক্তরাজ্যের কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশ নেয়ার ওপর বিধিনিষেধ এবং সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা জারি করা।

যুক্তরাজ্যের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরাইল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সার জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সাবেক লেবার দলীয় প্রধান জেরোমি করবিন ও এমপি ডায়ান অ্যাবোটসহ দেশটির ১২ জন এমপি ও অধিকারকর্মীর ইসরাইলে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তিনি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বাণিজ্যে পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের এই নীতি অনুসরণ করবে না, যদিও ওয়াশিংটন পশ্চিম তীরে কোনো অস্থিরতা দেখতে চায় না। এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে দুই রাষ্ট্র সমাধানের সমর্থনে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন বার্নহাম।

এএম