জাতিসংঘের নতুন বিশ্ব মানচিত্র গ্রহণ, বিতর্কিত সীমান্ত নিয়ে আপত্তি তিন দেশের

লিসবনে বিশ্ব মানচিত্রের ওপর দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি
বিদেশে এখন
0

মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত নতুন বিশ্ব মানচিত্র নিয়ে আপত্তি তুলেছে জাপান, ভারত ও ইউক্রেন। নতুন ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্রের মূল উদ্দেশ্যকে সমর্থন করলেও বিতর্কিত সীমান্ত ও অঞ্চলের রঙের তারতম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশগুলো। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত সপ্তাহে পাস হওয়া প্রস্তাবে ১৫৬৯ সালের ইউরোকৈন্দ্রিক ‘মারকেটর’ প্রজেকশনের জায়গায় ২০১৮ সালে তৈরি ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশনের নতুন মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়। ১৬৪টি দেশ এর পক্ষে ভোট দিলেও যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ হিসেবে সরাসরি বিপক্ষে অবস্থান নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ বলেন, ‘প্রকৃত সমস্যাগুলোতে নজর দেয়ার বদলে এই সংস্থা ১৬ শতকের মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক করছে, যা এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করছে।’

পুরোনো মানচিত্রে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রকে বিশাল এবং আফ্রিকাকে অস্বাভাবিক ছোট দেখানো হতো। যেমন—গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকাকে প্রায় সমান দেখানো হলেও বাস্তবে আফ্রিকা মহাদেশ গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড়। তবে নতুন মানচিত্রে মহাদেশের ভৌগোলিক আয়তন ঠিক করা হলেও সীমান্ত চিহ্নিতকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ।

ইউক্রেন ও তার সংহতি প্রকাশকারী কয়েকটি দেশ প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত ছিল। কিয়েভের অভিযোগ, নতুন মানচিত্রে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রিমিয়া উপদ্বীপের রং মূল ইউক্রেন থেকে আলাদা এবং হালকা শেডে দেখানো হয়েছে। জাতিসংঘে ইউক্রেনের স্থায়ী প্রতিনিধি আন্দ্রি মেলনিক বলেন, ইতিহাস সংশোধন করতে গিয়ে সীমান্ত বিকৃতির নতুন পথ খুলে দেয়া বড় ভুল হবে।

অন্যদিকে নতুন মানচিত্রে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যকার বিতর্কিত কুড়িল দ্বীপপুঞ্জকে রুশ ভূখণ্ডের মতো একই রঙে দেখানোয় আপত্তি জানিয়েছে টোকিও। জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা জানান, দেশের ভৌগোলিক নাম ও এলাকা নিয়ে ভুল ধারণা ছড়ানো বন্ধ করতে মানচিত্র সংশোধনের আবেদন করা হয়েছে।

এছাড়া প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও কাশ্মীর ও লাদাখ সীমান্ত নিয়ে নিজেদের কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখসহ ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ড অবশ্যই দেশটির সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী দেখাতে হবে এবং কোনো বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা গ্রহণযোগ্য নয়।

এএম