একদিনে জিবুতিতে ১,৪০০ ইয়েমেনি শরণার্থীর আশ্রয়

জিবুতিতে একটি শরণার্থী শিবির
বিদেশে এখন
0

বাব এল-মানদেব প্রণালির ওপর হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের মুখে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ইয়েমেন ছেড়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ। জিবুতির অর্থমন্ত্রী গতকাল শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আল জাজিরা প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ লেখেন, ‘মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেন থেকে ১,৪০০ শরণার্থী জিবুতিতে এসে পৌঁছেছেন।’

এর আগে শুক্রবার পৃথক এক পোস্টে তিনি জানান, বাব এল-মানদেব প্রণালি অতিক্রম করার সময় সাগরে কয়েকটি নৌকার জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। পরে ভাসমান অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নারী ও শিশুসহ ৫০০ শরণার্থীকে উপকূলীয় শহর ওবোকে নিয়ে আসা হয়।

ইয়েমেন উপকূল থেকে জলপথে মাত্র ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দূরের ওবোক শহরটি বেশ কয়েক বছর ধরেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইয়েমেনের শরণার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অন্যদিকে হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাড়ি জমাতে চাওয়া অভিবাসীরাও ইয়েমেনে প্রবেশের মাধ্যম হিসেবে এই বাব এল-মানদেব প্রণালিই ব্যবহার করে থাকেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বিষয়ক সমন্বয়কারী সাফিয়া ইব্রাহিম বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, নারী ও শিশুসহ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মানুষেরা ওবোক উপকূলে পৌঁছেছেন। আগামী দিনগুলোতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

শনিবার সংস্থাটি আরও জানায়, গত জুলাই থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সম্প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাস্তুচ্যুতির এ সংখ্যা চারগুণ বেড়েছে। বর্তমানে জিবুতিতে হাজার হাজার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী অবস্থান করছেন।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) ২০২৬ সালের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিবন্ধিত শরণার্থীর সংখ্যা ৩৬,০০০ ছাড়িয়েছে, যাদের সিংহভাগই সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক।

এএইচ