সাগরে একের পর ফেরিডুবি ও নৌযান দুর্ঘটনায় যখন প্রশ্নের মুখে নিরাপদ নৌ চলাচল, ঠিক তখন বিশ্বের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক ফেরি 'চায়না জোরিলা' উন্মোচন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ উরুগুয়ে।
শনিবার দেশটির নুয়েভা বন্দরে প্রথমবারের মতো শতভাগ বিদ্যুতায়িত ফেরিটি সর্বসাধারণের প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। নিজ চোখে ফেরিটি দেখতে নানা বয়সী মানুষের ভিড় জমে বন্দরটিতে।
নির্মাতারা বলছেন, ফেরিটিতে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ব্যাটারি সিস্টেম রয়েছে। এর বিদ্যুৎ সঞ্চয় ক্ষমতা ৪০ মেগাওয়াটেরও বেশি। ব্যাটারিগুলো ৮টি ইলেকট্রিক ওয়াটারজেট প্রোপালশন ইউনিটে শক্তির যোগান দেবে। ফলে ডিজেল- ইঞ্জিন ছাড়াই চলবে ফেরি।
এটি নির্মাণ করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ায়। পরে ফেরিটি কিনে নেয় উরুগুয়ের শিপিং কোম্পানি বুকেবাস। পরিবেশবান্ধব এই যানটি নৌ পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে প্রত্যাশা কোম্পানির পরিচালকের।
বুকেবাসের পরিচালক জুয়ান কার্লোস লোপেজ মেনা বলেন, যখন আমরা পরিবেশ নিয়ে কথা বলি, তখন আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভাবি। পরিবেশের সুরক্ষায় কার্বন নিঃসরণ অবশ্যই কমাতে হবে।
পরিবেশবান্ধব নৌ-চলাচল নিশ্চিতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বুকেবাসের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন উরুগুয়ের পরিবেশমন্ত্রী।
উরুগুয়ের পরিবেশমন্ত্রী এডগার্দো ওর্তুনো বলেন, বিশ্ব পরিবেশবান্ধব ও আরও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে বুকেবাস কোম্পানি নতুন যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেটিকে সরকার স্বাগত জানায়।
দক্ষিণ উরুগুয়ের কলোনিয়া থেকে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস পর্যন্ত চলাচল করবে ফেরিটি। এর আগে দীর্ঘ নৌপথ অতিক্রম করে অস্ট্রেলিয়া থেকে উরুগুয়েতে চায়না জোরিলাকে' নিয়ে আসা হয়।
সম্পূর্ণ সামুদ্রিক- গ্রেড অ্যালুমিনিয়াম নির্মিত ১৩০ মিটার দীর্ঘ ফেরিটি ২১শ যাত্রী ও ২২৫টি যানবাহন পরিবহনে সক্ষম। এর নামকরণ করা হয়েছে উরুগুয়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কনসেপসিওন 'চায়না' জোরিলার সম্মানে।





