দিনাজপুরের অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত কৃষি, শিল্প ও ছোট-বড় ব্যবসায় এমন চিত্র নিত্যদিনের। বিদ্যুৎ না থাকলে শুধু ঘর অন্ধকার হয় না, থেমে যায় মানুষের আয়-রোজগারও।
ভ্যান চালকরা জানান, ব্যাটারি চার্জ না হলে আমরা কিভাবে ইনকাম করবো? দুই আড়াই ঘণ্টা, পাঁচ ঘণ্টা, ছয় ঘণ্টা কারেন্ট না পাওয়াতে আর জেনারেটর চালানোতে আমাদের বর্তমানে পাঁচ-সাতশো টাকা খরচ হয়।
গবাদিপশুর খামারেও পানি সরবরাহ, দুধ সংরক্ষণ কিংবা বিভিন্ন যন্ত্র চালাতে বিদ্যুৎ না থাকলে বাড়ে খরচ, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক কার্যক্রম। কর্ম-ঘণ্টার ওপর যাদের আয়—লোডশেডিংয়ের প্রভাব তাদের জীবনে সরাসরি। বিদ্যুৎ চলে গেলে থেমে যায় দোকান, ওয়ার্কশপ কিংবা বিভিন্ন যন্ত্রনির্ভর কাজ।
দিনাজপুরের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ধান-চাল প্রক্রিয়াজাতকরণ। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মেশিন চালু রাখতে ব্যবহার হচ্ছে বিকল্প জ্বালানি। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ায় বিদ্যুৎনির্ভর শিল্প উদ্যোক্তারা পড়েছেন সংকটে। উৎপাদন বন্ধ হলেও শ্রমিকের মজুরি, কারখানার ভাড়া, ঋণের কিস্তি—সবই চলমান। ফলে বিদ্যুৎ সংকটের সরাসরি চাপ পড়ছে উৎপাদনে।
শিল্পপতি শহিদুল ইসলাম পাটোয়ারী মোহন বলেন, আমাদের প্রোডাকশন কস্ট বেড়ে যাচ্ছে। আরেকটা বড় ক্ষতি হচ্ছে হঠাৎ করে যখন বিদ্যুৎ চলে যায় তখন আমাদের এক একটা মিলে প্রায় ৪০-৪৫ টা মোটর থাকে। এগুলো জ্বলে যায়। তা আমাদের যেমন মেশিনারি ক্ষতি হচ্ছে, উৎপাদনও খরচ ক্ষতি হচ্ছে এবং উৎপাদনের সময় লাগছে, আবার ডিজেল দিয়ে চালাতে গেলেও ইউনিট খরচ বেশি।
বিদ্যুতের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল উদ্যোক্তারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারছেন না। এতে উৎপাদন কমছে, বাড়ছে বিকল্প জ্বালানির খরচ। আর বাড়ছে উৎপাদন খরচ।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণ জানতে দিনাজপুর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে দিনাজপুরেই রয়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে চলতি বছর পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছিল। তবুও জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট থাকায় প্রশ্ন উঠছে—স্থানীয় উৎপাদন, জাতীয় গ্রিডের সরবরাহ এবং স্থানীয় চাহিদার মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর?
অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এটি কৃষি, শিল্প, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ধরে রাখারও অন্যতম শর্ত। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়তে থাকবে ব্যবসায়ীদের খরচ; যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পড়তে পারে সাধারণ ভোক্তার ওপরও।





