বসকে ‘না’ বলতে ভয়? জাপানে ভরসা ‘রিজাইন এজেন্সি’

চাকরি থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়াকে জাপানে বলা হয় বাক্কুরে
বিদেশে এখন
0

জাপানে কর্মক্ষেত্রে মুখোমুখি ঝামেলা এড়াতে টাকা দিয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা এজেন্সির মাধ্যমে চাকরি ছাড়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। এই পদত্যাগে সহায়তা করা ব্যবসাগুলোকে বলা হয় ‘রিজাইন এজেন্সি’। বিশেষ করে দেশটির তরুণ কর্মজীবীদের মধ্যে এই সেবা নেয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জাপানি সংস্কৃতিতে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যাওয়া বা না জানিয়ে চাকরি ছেড়ে দেয়াকে বলা হয় ‘বাক্কুরে’, যা ডেটিং দুনিয়ার ‘গোস্টিং’-এর সমতুল্য। অনেক দেশে এমন আচরণ দায়িত্বজ্ঞানহীন মনে করা হলেও, জাপানের সমাজব্যবস্থায় সরাসরি সংঘাত বা কলহ এড়াতে এই পথ বেছে নেন অনেকে।

জাপানের শীর্ষস্থানীয় রিজাইন এজেন্সি ‘অ্যালবাট্রস’ এর তথ্য অনুযায়ী, তারা প্রতি মাসে অন্তত সাড়ে চার শ মানুষকে গোপনে চাকরি ছাড়তে সাহায্য করে। এ জন্য ফুলটাইম কর্মীদের কাছ থেকে প্রায় ১২০ ইউরো (প্রায় ১৩৮ ডলার) ফি নেয়া হয়। মাত্র ১৫ মিনিটের এক ফোনেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে এজেন্সি। সরাসরি বসের মুখোমুখি না হয়ে ও কোনো ঝগড়া ছাড়া পদত্যাগের কারণে সেবাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

অ্যালবাট্রসের প্রধান নির্বাহী ইউকা হামাদা জানান, কর্মক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতন বা যৌন হয়রানির শিকার হলেও অনেকে ভয়ে সরাসরি পদত্যাগ করতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে এসব এজেন্সি তাদের সাহায্য করে। শিক্ষাবিদদের মতে, জাপানের প্রথাগত করপোরেট সংস্কৃতিতে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ফলে বসদের কাছে পদত্যাগের কথা বলাকে এক ধরনের অপমান বা বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করা হতো, যা তরুণদের মনে ভীতির জন্ম দেয়।

জাপানি সংস্কৃতিতে পারস্পরিক সামাজিক সম্প্রীতি ধরে রাখা এবং অন্যের জন্য ঝামেলা না তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই হঠাৎ চাকরি ছাড়লেও সাবেক প্রতিষ্ঠানকে যেন ঝামেলায় পড়তে না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকেন কর্মীরা। সে জন্য পদত্যাগের আগে ডেস্ক পরিষ্কার রাখা এবং এজেন্সির মাধ্যমে বিদায়ী ধন্যবাদ জানানোর মতো শিষ্টাচারও মেনে চলেন তারা।

এএম