আঞ্চলিক যুদ্ধ ও মিত্রদের নীরবতা, অর্থনৈতিক সংকটে সৌদি যুবরাজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
বিদেশে এখন
0

আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার এবং পশ্চিমের মিত্রদের নিষ্ক্রিয়তায় অভূতপূর্ব চাপের মুখে পড়েছেন সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো নেতা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে আসার যে বিশাল রূপকল্প বা ভিশন ২০৩০ তিনি সাজিয়েছিলেন, অঞ্চলের অশান্ত পরিস্থিতির কারণে তা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সৌদি আরবের চারপাশে এখন একের পর এক সংকট। উত্তরে ইরাকের ইরান সমর্থিত অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন। দক্ষিণে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে এগিয়ে গিয়ে বাব-এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার হুমকি দিচ্ছে। আর পূর্বে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে দেশকে দূরে রেখে অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটানোর যে শর্ত যুবরাজ সালমান নির্ধারণ করেছিলেন, তা এখন বাস্তবে মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে হুতিদের আক্রমণের মুখে সৌদি যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার ফোনে কথা বলে সরাসরি মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানান। তবে ওয়াশিংটন কেবল গোয়েন্দা তথ্যসহ সীমিত সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে, সরাসরি বিমান হামলায় রাজি হয়নি। একইভাবে যুক্তরাজ্য কিছু সামরিক উপদেষ্টা পাঠালেও যুদ্ধ করার জন্য প্রত্যক্ষ কোনো সহায়তা দেয়নি।

যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক শিক্ষক রব গাইস্ট পিনফোল্ড জানান, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য একটি স্থিতিশীল আঞ্চলিক পরিবেশ তৈরি করাই ছিল যুবরাজের মূল কৌশল। সেই পুরো কৌশলটি এখন চরম চাপের মুখে।

ওপেক-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের তেল উৎপাদন বর্তমানে ৩৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর দেশটির পশ্চিম উপকূলের তেল শোধনাগারগুলোতে উৎপাদন কমানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার এই ঘাটতি যুবরাজ সালমানের অর্থনৈতিক মেগা প্রকল্পগুলোতে প্রভাব ফেলছে। বহু কোটি ডলারের দ্য লাইন শহরের নির্মাণকাজ পিছিয়ে দেয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু খাতে বিনিয়োগ পুনর্বিন্যাস করতে হচ্ছে।

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ইয়েমেনে সামরিক হামলা চালিয়েও হুতিদের দমানো সম্ভব হয়নি। আবার আঞ্চলিক রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান শরিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ফলে বিপদের মুহূর্তে ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের পাশে পাওয়ার সুযোগও কমে এসেছে।

তবে আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকলেও যুবরাজ সালমানের ক্ষমতা হারানোর কোনো শঙ্কা দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বাহরাইনের আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ আহমেদ আলখুজাই ও গালফ নিরাপত্তা বিশ্লেষক ক্রিস্টিয়ান আলেকজান্ডারের মতে, অর্থনীতিতে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হলেও দেশের নিরাপত্তা অবকাঠামো সম্পূর্ণ যুবরাজের নিয়ন্ত্রণে এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে তার শক্ত ভিত্তি রয়েছে। সংঘাতময় মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সৌদি আরবকে বিনিয়োগের নিরাপদ দ্বীপ বানানোর যে পরিকল্পনা যুবরাজ করেছিলেন, আঞ্চলিক সহিংসতা এখন তার দরজাতেই কড়া নাড়ছে।

এএম