গাজায় বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে এআই ব্যবহারের পর এবার অধিকৃত পশ্চিম তীরেও এই প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়িয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। তুর্কি সংবাদমাধ্যম পালডিজিটালের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের তৈরি ইমিসাইট নামের একটি এআই টুল ব্যবহার করে বিস্তীর্ণ ভূমির ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। অনুমতি ছাড়া ফিলিস্তিনিরা কোনো নতুন কাঠামো তৈরি করছে কি না, তা এআইয়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করেই বুলডোজার পাঠিয়ে ভেঙে দেয়া হচ্ছে।
প্রথমে এই প্রযুক্তি নাকাব মরুভূমির ফিলিস্তিনি বেদুইনদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ বেদুইন বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করার পর তা পশ্চিম তীরে নিয়ে আসা হয়। অথচ পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভবন নির্মাণের অনুমতি পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
প্যালেস্টাইন কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের কর্মকর্তা আমির দাউদ আল জাজিরাকে বলেন, ‘নাকাব মরুভূমিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি ও উচ্ছেদ চালানোর যে মডেল পরীক্ষা করা হয়েছিল, এখন সেটিই অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিয়ে আসা হয়েছে।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মহাকাশে থাকা অত্যাধুনিক স্যাটেলাইটে এআই চিপ যুক্ত করে সরাসরি ছবি ও ভৌগোলিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফলে মানুষের কোনো পর্যবেক্ষণ ছাড়াই সরাসরি স্যাটেলাইট থেকেই ভেঙে ফেলার লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত হয়ে যাচ্ছে।
ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন পিস নাউ এবং কেরেম নাভতের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালে পশ্চিম তীরের এরিয়া সি ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে বাড়িঘর উচ্ছেদের হার ৮০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসেই ১ হাজার ২৮৮টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।
একদিকে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি দ্রুত উচ্ছেদ করা হচ্ছে, অন্যদিকে এআই নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ ইহুদি বসতিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেগুলোকে স্থায়ী রূপ দেয়া হচ্ছে।ফিলিস্তিনি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ খালেদ সাফি সতর্ক করে বলেন, ‘ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে কেবল নজরদারির জায়গা নয়, বরং সব সামরিক প্রযুক্তি পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করছে দখলদার শক্তি। এখানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তা বিশ্ববাজারে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির উপযুক্ত করে তোলা হচ্ছে।’





