ইন্দোনেশিয়ার দাবানল সংকট: বিমান ও অগ্নিনির্বাপক দল পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া

টেগাল আরুম ও গুনতুং দামার এলাকায় বন ও জমিতে ছড়িয়ে পড়া আগুনে পানি ছিটাচ্ছে একটি হেলিকপ্টার
বিদেশে এখন
0

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে মালয়েশিয়ার সহায়তা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাকার্তা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়ায় বিমান, হেলিকপ্টার ও ৫০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী পাঠাবে কুয়ালালামপুর। আজ (শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এ তথ্য জানান।

গত শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে বৈঠক করেন মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ। সেই বৈঠকেই মালয়েশিয়ার সহায়তার প্রস্তাব অনুমোদন করেন প্রাবোও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক বার্তায় জাহিদ হামিদি বলেন, সহায়তা প্রস্তাব গ্রহণ করায় ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি জানান, দাবানল নেভানোর অভিযানে একটি বোম্বারডিয়ার সিএল-৪১৫এমপি বিমান, তিনটি হেলিকপ্টার এবং ৫২ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী পাঠাবে মালয়েশিয়া। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সীমান্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধোঁয়াশা ও দাবানল সুসংগঠিতভাবে প্রতিরোধের বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করেন।

সহায়তা প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেন, ‘এটি একটি পরিবেশগত সমস্যা যা একাধিক দেশকে প্রভাবিত করছে। আগুন ইন্দোনেশিয়ায় লাগলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিবেশীরাও অনুভব করছে। তারা সাহায্য করতে চেয়েছে এবং জাকার্তা তা স্বাগত জানাচ্ছে।’

সুমাত্রা ও বোর্নিওর এই দাবানল থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়াশায় ঢেকে গেছে ইন্দোনেশিয়ার একাংশসহ প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। এর আগে গত সপ্তাহে দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য বোর্নিওতে ৩০০ জনের বেশি সেনা পাঠায় জাপান।

সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ায় নিয়মিত দাবানল দেখা যায়। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত বনাঞ্চল ধ্বংস, জমি পরিষ্কারের জন্য আগুনে পোড়ানোর পুরোনো পদ্ধতি এবং চলতি বছরের শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে দাবানল এবার বেশি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি হিসাবে গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২ লাখ ২ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। তবে বেসরকারি হিসাবমতে, আগস্ট পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে অবলম্বনে

এএম