কিয়েভ ও খারকিভে রুশ বিমান হামলায় প্রাণহানি, অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চান জেলেনস্কি

রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি প্লাস্টিকের পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা
বিদেশে এখন
0

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক প্রসূতি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে বেসামরিক অবকাঠামো ও কৃষিখামারে এই বিমান হামলা চালায় রুশ সামরিক বাহিনী। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে জানান, মানুষ যখন ঘুমিয়ে ছিল তখন বিস্ফোরণের আলোয় আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে। আবাসিক ভবন, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, সরবরাহ লজিস্টিকসের পাশাপাশি একটি প্রসূতি হাসপাতালেও আঘাত হেনেছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েভে দুজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। হাসপাতালের প্রধান ফটক, জানালা ও গাড়ি পার্কিং স্থানে আঘাত লাগলেও রোগী বা চিকিৎসকদের কোনো ক্ষতি হয়নি।

অন্যদিকে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের একটি গ্রামের সবজি সংরক্ষণাগারে পৃথক রুশ হামলায় ছয়জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৌঁসুলি কার্যালয়। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানায়, এই রাতের হামলায় হাইপারসনিক ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ মোট ২৮২টি ড্রোন ব্যবহার করেছে রাশিয়া।

মস্কোর ওপর পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক চাপ না থাকায় রাশিয়া বারবার এমন নৃশংস হামলা চালাতে পারছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলেনস্কি। এই মুহূর্তে ইউক্রেনকে শক্তিশালী ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আকুল আবেদন জানান তিনি।

হামলার পরিধি আশেপাশের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। মলদোভা জানিয়েছে, চারটি রুশ ড্রোন তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এছাড়া রোমানিয়া ও ন্যাটো সদস্য দেশ পোল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ায় পোল্যান্ড দুইবার তাদের যুদ্ধবিমান আকাশে উড়িয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ কেন্দ্রে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে।

এএম