বাণিজ্যযুদ্ধের পর নতুন শঙ্কা; যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সংঘাত?

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা
বিদেশে এখন
0

বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্র কি কানাডার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেবে? এই প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে এখন নতুন করে আলোচনায়। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার ঝুঁকি নিয়ে পর্যালোচনা করছেন তিনি, নেয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও।

পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপ করে ভয়ংকর বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা। ট্রারিফের এ খেলায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে পারে, এই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে নানা মহলে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়া, এবং সামরিক হস্তক্ষেপের দীর্ঘ ইতিহাস আছে যুক্তরাষ্ট্রের। অদূর ভবিষ্যতে কানাডায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার আশঙ্কা কতখানি এ নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। জবাবে মার্ক কার্নি বলেন, ‘সম্ভাবনা খুবই কম, কিন্তু একেবারে অসম্ভব না। দায়িত্বের অংশ হিসেবে চরম ঝুঁকি নিয়েও পর্যালোচনা করতে হয়।’

কার্নির ভাষায়, এটি ‘এক্সট্রিম টেইল রিস্ক’ অর্থাৎ, এমনটা ঘটার সম্ভাবনা খুব কম, কিন্তু ঘটলে চরম বিপর্যয়।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ‘সরকারের পদে থাকলে চরম ঝুঁকিগুলো পর্যালোচনা করা দায়িত্বের অংশ। এটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়। এটি কোনো মৌলিক পরিস্থিতি নয়। তবে প্রস্তুতি না নেয়াটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে।’

আরও পড়ুন

কার্নির বক্তব্য শুধু সামরিক ঝুঁকিতেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নির্ভরতা কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। স্টারলিংক থেকে নির্ভরতা কমানো, এফ-35 যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার মতো পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।

কার্নির এ অবস্থানের পেছনে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক মন্তব্য। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হিসেবে দেখার কথা বলে আসছেন। ২০২৫ সালে তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করলেও, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করতে অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারের কথা বলেছিলেন। এদিকে কানাডার সামরিক বাহিনীও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল।

আরও পড়ুন

কানাডার সম্ভাব্য প্রতিরোধ কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে গেরিলা যুদ্ধ, ড্রোন হামলা এবং ছোট ছোট ইউনিটে ভাগ হয়ে অতর্কিত হামলার মতো কৌশল। সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে কানাডা ৪০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে একটি রিজার্ভ বাহিনী গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করছে।

তবে কানাডার এই প্রস্তুতির সঙ্গে একমত নন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা। মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল কানাডায় হামলার কোনো পরিকল্পনাকে 'সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক' বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি এমনকি কানাডায় হামলার পরিকল্পনাকে মঙ্গলগ্রহে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

অর্থাৎ, একদিকে কানাডা সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি রাখছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্ব এমন পরিস্থিতিকে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা হিসেবে দেখছে না।

আর প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির অবস্থান হলো- যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কোনো ‘বেস কেস’ নয়, বরং অত্যন্ত কম সম্ভাবনাময় একটি চরম ঝুঁকি। তবে সেই ঝুঁকি যতই কম হোক, সরকারের দায়িত্ব হলো তার জন্য প্রস্তুত থাকা। যেভাবে সর্তকতার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ মোকাবিলা করছে কানাডা।

জেআর