গত মাসে ডিএমজেড সীমান্তে পুতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনাসদস্য গুরুতর আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড যৌথ তদন্ত পরিচালনা করে জানায়, মাইনগুলো উত্তর কোরিয়ার তৈরি এবং সেগুলো সীমান্তরেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশে স্থাপন করা হয়েছিল, যা ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এর পর দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা দাবি করে।
জবাবে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমার দাবিকে সরাসরি কটাক্ষ করেন। পিয়ংইয়ং সীমান্তরেখায় মাইন বিস্ফোরণের পেছনে নিজেদের দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার উদারপন্থি প্রেসিডেন্ট লি জে মাইউং দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বিনা শর্তে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কিম ইয়ো জংয়ের এই কড়া প্রতিক্রিয়া সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে; দেশটির বিরোধী দল অভিযোগ করেছে, সেনাদের রক্ত ঝরার পরও উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে অতিরিক্ত নরম নীতি গ্রহণ করছেন প্রেসিডেন্ট।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ায় সিউল বা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আপাতত আলোচনা করার তাগিদ অনুভব করছে না। ফলে সীমান্ত উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা আপাতত কম।





