গাজায় চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে বিলম্ব, ভয়াবহ পরিণতির সতর্কতা ডব্লিউএইচওর

ডব্লিউএইচওর লোগো
বিদেশে এখন
0

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও কৃত্রিম অঙ্গসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে দফায় দফায় বিলম্বের কারণে ফিলিস্তিনিদের ‘ভয়াবহ পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত শুক্রবার সংস্থাটি জানায়, অনুমোদিত ত্রাণসামগ্রী কেবল গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরেম শ্যালম ক্রসিং দিয়ে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে। অন্যদিকে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে কেবল চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চাওয়া রোগীসহ সীমিতসংখ্যক মানুষের যাতায়াত চলছে। এছাড়া গাজায় প্রবেশের অন্য চারটি প্রধান পথ—কিসুফিম, গেট ৯৬, ইরেজ ও পশ্চিম ইরেজ সম্পূর্ণ ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এগুলো এখনও পুরোপুরি বন্ধ।

ফিলিস্তিনে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি রেইনহিল্ড ভ্যান দে উইয়ার্ড ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের ওপর থেকে কড়াকড়ি তুলে নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামকে কোনোভাবেই দ্বৈত ব্যবহারের (বেসামরিক ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত) পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

তিনি জানান, গত ছয় মাসে গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়ক সরঞ্জামের একটি চালান চারবার আটকে দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি প্রত্যাখ্যানের অর্থ হলো, যিনি অঙ্গ হারিয়েছেন এবং আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষায় আছেন, তার জন্য সেই সুযোগটি আরও পিছিয়ে যাওয়া।’

শীত মৌসুম এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভ্যান দে উইয়ার্ড বলেন, তীব্র ঠান্ডা ও বন্যার ঝুঁকি থেকে বাঁচতে প্রায় ২০ লাখ মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন। নিরাপদ আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওচা) সতর্ক করেছে যে ভারী যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও জ্বালানির সংকটে গাজা সিটিতে বর্জ্য অপসারণ ব্যাহত হচ্ছে, যা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি হামলা ও নানা বিধিনিষেধের কারণে গাজার সামগ্রিক পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়কর অবস্থায় রয়েছে।

এএম