সুদান সংঘাত: আধা সামরিক বাহিনী আরএসএফের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর সামরিক সাফল্য

সুদানের সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান
বিদেশে এখন
0

সাড়ে তিন বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত সুদানে আধা সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পেয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় সংঘাতের অন্যতম প্রধান রণক্ষেত্র কর্দোফান ও ব্লু নীল রাজ্যে আরএসএফের শক্ত অবস্থানগুলোতে আঘাত হেনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ)। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সেনাবাহিনী ঠিক কী ধরনের সাফল্য পেয়েছে?

উত্তর কর্দোফান রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর আল-মাজরুব পুনর্দখলে নিয়েছে সুদানি সেনাবাহিনী। তীব্র লড়াইয়ের পর শুক্রবার শহরটি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার কথা জানায় সামরিক বাহিনী। সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ দাইদান আনাদোলু বার্তা সংস্থাকে বলেন, ‘তীব্র লড়াইয়ের পর সুদানি সেনাবাহিনী আল-মাজরুবের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।’ তিনি জানান, আরএসএফের সরবরাহ পথ বিচ্ছিন্ন করতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ। কারণ এই শহরটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তর কর্দোফান এবং আরএসএফের শক্ত ঘাঁটি পশ্চিম কর্দোফানের মধ্যকার প্রধান সংযোগপথ হিসেবে কাজ করে।

এদিকে শনিবার ব্লু নীল রাজ্যেও আরএসএফ এবং তাদের মিত্র সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট-নর্থের (এসপিএলএম-এন) বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানের দাবি করেছে সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর চতুর্থ পদাতিক ডিভিশন জানায়, মিনজা ও বাশকারকাদ এলাকায় চালানো ওই অভিযানে আরএসএফের বহু যোদ্ধা হতাহত হয়েছে এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া আরএসএফের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছেন ব্লু নীল রাজ্যের গভর্নর।

কোন অঞ্চলে কার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে?

২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে রাজধানী খার্তুমে শুরু হওয়া এ সংঘাত বর্তমানে সুদানের ১৮টি রাজ্যের মধ্যে ১৩টিতে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে সুদানের সেনাবাহিনী রাজধানী খার্তুমসহ দেশের উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পশ্চিম সুদান ও দারফুরের প্রায় পুরো অঞ্চল এবং কর্দোফানের কিছু অংশ। ২০২৩ সালের শেষদিকে দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি এল-ফাশের দখলের পর আরএসএফ লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু কর্দোফানের দিকে সরিয়ে নেয়। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার (এসিএলইডি) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সুদান যুদ্ধের মোট হামলার প্রায় ১৯ দশমিক ৭ শতাংশই ঘটেছে কর্দোফান অঞ্চলে। রাজধানী খার্তুমের পরই এটি এখন দেশটির সবচেয়ে সক্রিয় রণক্ষেত্র।

মানবিক পরিস্থিতি কতটা শোচনীয়?

যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের মানবিক বিপর্যয়ের কোনো উন্নতি হয়নি। এ যুদ্ধে ইতিমধ্যে ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘ-সমর্থিত ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সুদানের ১ কোটি ৯৫ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি) তীব্র খাদ্যসংকটের মুখোমুখি। উত্তর দারফুর, দক্ষিণ দারফুর ও দক্ষিণ কর্দোফানের ১৪টি এলাকা দুর্ভিক্ষের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া চলতি বছর দেশটিতে প্রায় ৮ লাখ ২৫ হাজার শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চরম মুদ্রাস্ফীতি ও স্থানীয় মুদ্রার দরপতনে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সক্ষমতা তলানিতে পৌঁছেছে।

এএম