নিহত ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানের নাম দারিয়া শিপিলোভা (২৮)। তিনি সাইবেরিয়া অ্যান্ড দ্য ফার ইস্টের ইরকুতস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলেন। তিনি কীভাবে ও কোথায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তা নিয়ে অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর পর শেলেখভ শহরের যে হাসপাতালে তিনি মারা যান, সেখানকার সংক্রামক ব্যাধি ইউনিটের কিছু অংশ সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানার কর্মীদের সুরক্ষার্থে মাস্ক পরার নির্দেশ দেয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায় যে ওই নারী গবেষণাগারে তরল ব্যাকটেরিয়াভর্তি একটি টেস্টটিউব অসাবধানতাবশত ফেলে দিয়েছিলেন। তবে রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার নজরদারি সংস্থা রসপোট্রেবনাদজর জানিয়েছে, সেখানে অসাবধানতাবশত ক্ষতিকারক কোনো প্যাথোজেন বা জীবাণু ছড়ানোর মতো দুর্ঘটনার প্রমাণ মেলেনি। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সংস্থাটির প্রধান আনা পোপোভা জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে তাৎক্ষণিকভাবে সাইবেরিয়ায় যান। পরে সংস্থাটি জানায়, মৃত নারীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করে দুজনের করোনা ও দুজনের রাইনোভাইরাস শনাক্ত হলেও প্লেগের মতো মারাত্মক সংক্রমণের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এদিকে পার্শ্ববর্তী বুরিয়াতিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সি সিদেনভ টেলিগ্রামে দাবি করেন, ওই নারী ‘সম্ভবত প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন’। তবে তিনি স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে জানান যে ওই কর্মী বুরিয়াতিয়ায় আসেননি। অন্যদিকে ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি ‘অজ্ঞাত কারণের নিউমোনিয়ায়’ মারা গেছেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে প্রতিষ্ঠানটির নতুন কোনো কর্মী অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য আসেননি এবং মৃত নারীর সংস্পর্শে আসা সবাইকে চিহ্নিত করে চিকিৎসাগত নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে সাধারণ জনগণের জন্য এ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশ কম। তবে নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা সিডিসির মাধ্যমে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং রাশিয়ার কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে রাশিয়ার জন্য একটি ‘বড় সমস্যা’ উল্লেখ করে মস্কোকে স্বাস্থ্যগত সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ওয়াশিংটন পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
সাইবেরিয়ার বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণী ও তাদের শরীরে থাকা মাছির মাধ্যমে ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস ব্যাকটেরিয়া প্রাকৃতিকভাবে ছড়াতে পারে। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সরাসরি মানুষের ফুসফুসকে আক্রমণ করে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কাশির মাধ্যমে নির্গত বায়ুবাহিত ক্ষুদ্র কণার দ্বারা এটি দ্রুত ছড়ায়। দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা না করা হলে এক থেকে ছয় দিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।
—রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে অবলম্বনে





