বিশ্বের ৯০ শতাংশের বেশি তেল ও গ্যাস সরবরাহ ও চাহিদার প্রতিনিধিত্বকারী ৬৮টি দেশ নিয়ে গঠিত আইইএফ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করার প্রেক্ষাপটে যৌথভাবে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানির প্রধান উৎস
নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়লেও বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৮১ শতাংশই আসে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে। এর মধ্যে খনিজ তেলের অংশ ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ, কয়লা ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। খনিজ তেল উৎপাদনে মধ্যপ্রাচ্য এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনে উত্তর আমেরিকা শীর্ষে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের তেলের সামুদ্রিক পথ
সমুদ্রপথে পরিবাহিত বৈশ্বিক তেলের ২৭ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। এছাড়া লোহিত সাগরের বাব-এল-মান্দেব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে অপর অংশ পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে এসব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় অনেক জাহাজ আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে বাধ্য হচ্ছে।
লন্ডনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গিবসন শিপব্রোকার্সের গবেষণা পরিচালক রিচার্ড ম্যাথিউস বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির বিকল্প কোনো সামুদ্রিক পথ নেই। কিছু পাইপলাইন থাকলেও বিকল্প না থাকায় এই নৌপথটি পণ্য পরিবহনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তেল ও গ্যাসে সর্বাধিক নির্ভরতা
আফ্রিকা মহাদেশের দেশ ইরিত্রিয়া ও মাদাগাস্কার তাদের ব্যবহৃত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। এছাড়া পাকিস্তান ৭৮ শতাংশ এবং জাপান ও কেনিয়া ৭৭ শতাংশ তেল এ অঞ্চল থেকে আনে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের গ্যাসের প্রধান ক্রেতা মূলত এশিয়ার দেশগুলো। দক্ষিণ কোরিয়া তাদের প্রয়োজনীয় গ্যাসের ৩১ শতাংশ, ভারত ২৯ শতাংশ, পাকিস্তান ২৭ শতাংশ এবং তাইওয়ান ২৬ শতাংশ গ্যাস মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করে।
জরুরি তেলের মজুত অবস্থা
সংকটের কারণে বিভিন্ন দেশের কৌশলগত তেলের মজুত দ্রুত কমে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ ১৯৮২ সালের পর বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সৌদি আরামকোর প্রধান আমিন নাসের গত সোমবার এক ফোরামে বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বে যে ৬০০ কোটি ব্যারেল বাণিজ্যিক মজুতের হিসাব পাওয়া যায়, তার বড় অংশই বাস্তবে ব্যবহারযোগ্য নয়।’
গত মার্চে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকায় আইইএ আরও ১০ কোটি ব্যারেল ক্রুড ও ডিজেল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে চীনের হাতে সবচেয়ে বড় জরুরি তেলের মজুত রয়েছে—যার পরিমাণ আনুমানিক ১৪০ কোটি ব্যারেল। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল এবং তৃতীয় স্থানে থাকা জাপানের ২৬ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল জরুরি তেলের মজুত রয়েছে।
—আল জাজিরার প্রতিবেদনে অবলম্বনে





