হুথি হামলার জেরে বাংকারে সৌদি যুবরাজ, নেপথ্যে কী

সৌদি যুবরাজ
বিদেশে এখন
1

হুথিদের অব্যাহত হামলার মধ্যে সৌদি আরবের যুবরাজকে বিভিন্ন রাজপ্রাসাদের বাংকারে সরিয়ে নেয়ার কারণ কী শুধুই নিরাপত্তার ঝুঁকি? নাকি, প্রিন্স সালমানের প্রাণনাশে ইয়েমেনি গোষ্ঠীর গোপন কোনো পরিকল্পনার তথ্য পেয়েছে রিয়াদ। এমন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ঘুরে বেড়াচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ পোর্টালগুলোতে। যদিও যুবরাজের বাসস্থান বদল, নিরাপত্তা ঝুঁকি কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কা- কোনো ব্যাপারেই মুখ খুলছে না সৌদি কর্তৃপক্ষ।

দফায় দফায় এক প্রাসাদ থেকে আরেক প্রাসাদের বাংকারে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে। ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ব্যাপক হামলার মুখে চরম নিরাপত্তার ঝুঁকিতে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে ৪১ বছর বয়সী যুবরাজ, বাধ্য হয়ে এক আত্মগোপনই করেছেন কোনো না কোনো রাজভবনের বাংকারে- খবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের।

শনিবার রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেল এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও রক্তক্ষয়ী হামলা চালায় ইয়েমেনি বিদ্রোহী সংগঠনটি। আর, আল আরাবিয়ার খবর, গেল মঙ্গলবারের জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকেই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ক্রাউন প্রিন্সের সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিতদের সূত্র জানাচ্ছে, লোকচক্ষুর আড়ালে বিশেষভাবে বাছাই করা সুদক্ষ নিরাপত্তা দলের তত্ত্বাবধানে আছেন যুবরাজ।

এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যদিও উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সিরিয়াম’ জানাচ্ছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে আবারও হামলার হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত গোয়েন্দা বিভাগের। গেল জুলাইয়ে হুথিদের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর পর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসছে সৌদি আরবের। রাজপ্রাসাদ, বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামোর নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে রিয়াদ।

এসবের মধ্যেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নতুন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, তাহলে কী সৌদি যুবরাজকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে? যদিও এর নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উদ্বেগের শুরুটা হয়েছে সৌদি যুবরাজের বাসস্থান পরিবর্তন নিয়ে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে হুথিদের হামলা ও সামরিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোতে জোর দেয়া হলেও প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কী সৌদি যুবরাজের প্রাসাদ, আল ইয়ামামা প্যালেস সুরক্ষিত রাখার মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই রিয়াদের? নাকি যুবরাজকে এক প্রাসাদ থেকে আরেক প্রাসদে সরিয়ে নেয়ার পেছনে মূলে আছে হত্যা বা অভ্যুত্থানে ষড়যন্ত্র। যদিও মোহম্মদবিন সালমানের বাসস্থান পরিবর্তন নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়াই দিচ্ছে না সৌদি কর্তৃপক্ষ।

পরিস্থিতি এতটা ঘোলাটে হওয়ার আগেই গেল মাসে এয়ার ডিয়েন্স সিস্টেম আপগ্রেড বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসর কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছিল রিয়াদ। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেরই ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে যাওয়ায় এই পরিকল্পনা- বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে এই তথ্য দিয়েছেন সৌদির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

২০১৫ থেকে ২০২২, প্রায় ৭ বছর রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু গেল জুলাইতে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির জানাজায় যোগ দিতে তেহরান যাওয়ার কথা ছিল ইয়েমেনি প্রতিনিধি দলের। এসময় সানা বিমানবন্দরে হুথি প্রতিনিধিদের বহনকারী ইরানের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে হামলা করে সৌদি বাহিনী। সঙ্গে সঙ্গে ভেস্তে যায় ৪ বছর আগের যুদ্ধবিরতি, সূত্রপাত হয় নতুন সংঘাতের।

এফএস